আবর্জনার স্তূপে আধার-ভোটার-রেশন কার্ড, সঙ্গে তৃণমূলের পতাকার পাহাড়; বেলুড়ে বিতর্ক
eTV Bharat | ০৬ জুন ২০২৬
বেলুড়, 6 জুন: আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে রয়েছে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি ৷ শনিবার বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোডে উদ্ধার হওয়া বিপুল ব্যক্তিগত নথি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল এলাকায় ৷
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তার ধারের আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে বহু পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নথি ৷ তার মধ্যে আধার, ভোটার ও রেশন কার্ডের কপি ছাড়াও চাকরির আবেদনপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে৷ ওই একই জায়গায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচুর পতাকা ও প্রচারসামগ্রী ৷ এমনকী পড়ে রয়েছে ব্যক্তিগত ছবিও ৷ ঘটনাটির ছবি এবং ভিডিয়ো দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ৷
বেলুড়ে আবর্জনার স্তূপের মধ্যে রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যক্তিগত নথি, ঘিরে চাঞ্চল্য (ইটিভি ভারত)
এই ঘটনায় হাওড়া পুরসভার 60 নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সীমা ভৌমিক এবং তাঁর স্বামী দিবাকর চক্রবর্তীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা । অভিযোগকারীদের দাবি, গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগে নথিগুলি আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে ৷ এই অভিযোগের বিষয়ে সীমা ভৌমিক ও তাঁর স্বামীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷
স্থানীয় বিজেপি নেতা বিনীত পান্ডে, যোগেশ সিং, রাজেন সিং ও আকাশ শুক্লারা বলেন, "এখানে আবর্জনার জায়গায় 60 নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সীমা ভৌমিকের অফিস থেকে কিছু ময়লা জিনিসপত্র ফেলা হয়েছে ৷ এর মধ্যে কিছু রেশন কার্ড আছে, কয়েকটি ব্যক্তিগত ফোটো আছে ৷ দলের পতাকা আছে ৷ আরও কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে, যা খুবই উপযোগী ৷ তাই আমরা এখানে এসেছি, জানতে চাইছি কী হচ্ছে ৷ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা এখানে এসে তদন্ত করছে ৷ বৃহত্তর আকারে তদন্ত হওয়া উচিত, কেন এইভাবে এরকম গুরুত্বপূর্ণ নথি এখানে ফেলা হল এবং সীমা ভৌমিকের ভূমিকাই বা কী ?"
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নথিপত্র কোনও জনপ্রতিনিধি বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে কীভাবে জমা পড়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ৷ আরও বড় প্রশ্ন, যেসব কাগজের সঙ্গে নাগরিক পরিচয়, সরকারি পরিষেবা কিংবা কর্মসংস্থানের আশা জড়িয়ে থাকে, সেগুলি আবর্জনার স্তূপে পৌঁছল কীভাবে ?
এলাকার একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য, পরিচয় সংক্রান্ত নথি হারিয়ে গেলে বা অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে ৷ তাই বিষয়টিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক তরজার মধ্যে সীমাবদ্ধ না-রেখে তথ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা জরুরি ৷
নথিগুলির সত্যতা, সেগুলির উৎস এবং কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছল— তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে। বেলুড় থানার ভূমিকা নিয়েও নজর রয়েছে স্থানীয়দের। ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এল, যখন ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বেলুড়ের এই আবিষ্কার কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয়; নাগরিকের নথি কতটা সুরক্ষিত, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। তদন্তই এখন বলতে পারবে, এটি নিছক গাফিলতি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর কোনও অনিয়ম।