• টলিউডে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ ! স্বপক্ষে যুক্তি বাবাইয়ের, পাল্টা পূর্ণেন্দু শেখরের
    eTV Bharat | ০৬ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 6 জুন: রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই উত্তপ্ত টলিপাড়া ৷ কিছুতেই কাটছে না অস্বস্তির মেঘ৷
    অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে টলিপাড়া যেন আদালতের মঞ্চ। ছাই চাপা আগুনের মতো একে একে বেরিয়ে পড়ছে ক্ষোভের আগুন ৷ কে ঠিক বলছে আর কে ভুল তা সময় বলবে এবং প্রমাণসাপেক্ষ বিষয় ৷ তাই অভিযোগকারীদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে শুনে সংবাদ পরিবেশনই সংবাদ মাধ্যমের লক্ষ্য।

    টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে বসে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ 'ভয় আউট ভরসা ইন'-এর বার্তা দিলেও বেশ কিছুদিন ধরে টলিপাড়া হয়ে উঠেছে সবথেকে ভয়ের জায়গা ৷ দফায় দফায় কলাকুশলীদের মিটিং, আর তারপরেই বিপক্ষের তাণ্ডবে প্রতিদিন অশান্ত হয়ে উঠছে টলিপাড়া ৷ টলিপাড়ায় ফেডারেশনের অধীনে 26টি গিল্ড। আর আজ সেই 26টি গিল্ডের মধ্যেও হয়ে গিয়েছে ভাগাভাগি। অন্তর্দ্বন্দ্বে নাজেহাল বাংলা বিনোদন দুনিয়া।

    উল্লেখ্য, একাংশ কলাকুশলীর অভিযোগের আঙুল 'সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন'-এর সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক হাসান এবং বাবাইয়ের (নিরুপম দে) দিকে। তাঁদের বিরুদ্ধে টলিপাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। 'সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর এক অংশের সদস্যের অভিযোগ- "অরূপ বিশ্বাস-স্বরূপ বিশ্বাসের হাত ধরে টলিপাড়া হয়ে উঠেছিল নেক্সাসের আরত ৷ আর সেটা বানাতে বিপুল ভূমিকা ছিল হাসান, বাবাই, রাজীব পাল, বাপি মালাকারদের মতো টেকনিশিয়ানদের ৷"

    প্রসঙ্গত, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এক বৈঠকে হাসান, বাবাইয়ের নাম তুলে তাঁদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে আর জায়গা নেই বলে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও চরমে উঠেছে। পাপিয়া অধিকারীর কথায় উঠে আসে বাপি মালাকার, সুজিত হাজরা, স্বপন মজুমদারেরও নাম। তিনি বলেন, "এরা যা দুর্নীতি করেছে তাতে এদের আর রাখা হবে না এই ইন্ডাস্ট্রিতে। অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ করুক।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক হেয়ার ড্রেসার গিল্ডের সদস্য বলেন, "পাপিয়া অধিকারী অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাসকে ইন্ডাস্ট্রির 'রাক্ষস-খোক্ষস' বলে দাবি করেছেন। কিন্তু আসল রাক্ষস আর খোক্কস বাবাই আর হাসান। ওদের কাছের আর পছন্দের মানুষ না-হলে এখানে কাজ পাওয়া যায় না।"

    হাসান এবং বাবাইকে ‘জঙ্গি’ বা ‘হার্মাদ’ আখ্যা দিয়েছেন সেই এক সংখ্যক টেকনিশিয়ান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় গুহ, তাপস খাঁ, পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক, বাপি সান্যাল, সঞ্জীব বণিক এবং সুব্রত বিশ্বাস। এঁদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন নিরুপম দে ওরফে বাবাই ৷ তবে, অধিক অভিযোগ পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিকের বিরুদ্ধে ৷ তিনি বলেন, "যে সব মানুষগুলো প্রচার করেছে হাসান আর বাবাইয়ের গ্রেফতার চাই, তারা এখনও পর্যন্ত একটাও লিখিত অভিযোগ থানায় গিয়ে দিতে পারল না। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই উকিলের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই কেস ফাইল করব। তা হলে এখানেই প্রমাণ হচ্ছ কে দোষী আর কারা কাপুরুষ। যারা বলছে আমাদের নিয়ে তারা প্রত্যেকে কাপুরুষ।"

    তিনি আরও বলেন, " আগেরদিন প্রেস কনফারেন্স করে পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক আমাদের এক প্রোডাকশন ম্যানেজার সৌভিক দাসের বিচার করছেন। এই সৌভিক দাস সামনের মাসে মণিরত্নমের সঙ্গে কাজ করবেন ৷ মণিরত্নম'জি কলকাতায় শুটিং করবেন। রেইকি চলছে। তাঁরই প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবেন সৌভিক দাস। আর তাঁর সম্বন্ধে বাজে কথা বলছেন পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক ! যে লোকটি 'অগ্নিপরীক্ষা' সিরিয়ালের কাজ করার সময় সেকেন্ড রবিবার তেলের বিল পাঠিয়ে ফেলেন অ্যাক্রোপলিশ প্রযোজনা সংস্থাকে। সেই বিলের জন্য তাঁর কাজ চলে যায়। একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার যিনি জানেনই না সেকেন্ড সানডে টলিপাড়ায় ছুটি থাকে।" এদিন পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক-সহ বাকিদের অক্ষমতার আরও নানা দিক তুলে ধরেন বাবাই।

    ইটিভি ভারত যোগাযোগ করে পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিকের সঙ্গে ৷ তিনি বলেন, "বাবাইদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা নেই ৷ কাজের জায়গায় ওরা যেটা করে চলেছে সেটাই বলেছি ৷ আর ওরা একটা কথা ঢাকতে গিয়ে আরেকটা কথা উত্থাপন করল। তা হলে আমিও বলি, আমার ব্যাপারে যে অভিযোগটা ওরা তুলেছে তার সবটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাক্রোপলিশ এন্টারটেইনমেন্টের সানি ঘোষ রায় জানেন। তাঁর কাছে আপনারাও গিয়ে জেনে আসতে পারেন ঘটনাটা কী ঘটেছিল ৷ স্নিগ্ধা বসু বা সানি ঘোষ রায় আমাকে কাজ থেকে বের করে দেননি। আমিই কাজটা ছেড়ে দিয়েছি আর ওরা আমাকে এনওসি দিয়েছে। বাবাইরা সর্বৈব মিথ্যা কথা বলছে আমার নামে।"

    তিনি আরও বলেন, " যে সংস্কৃতি টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে 2016 পর্যন্ত ছিল তাতে নিজেদের নির্বাচনে কেউ ভেঁপু বাজাতো না। আজকাল সেটা হয়। বাবাইরা বিরোধী পক্ষ রাখতেই চায় না ভোটে। বড় দাদা, মেঝ দাদা, ছোড় দাদা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওরা ঠিক করে কে কোন পদে থাকবে। ওরা সংখ্যায় বেশি বলে ভোট ব্যাঙ্ক তৈরি করে রেখেছে।" তিনি আরও বলেন, " ওরা আমার যোগ্যতা নিয়ে আজ প্র‍শ্ন তুলছে! ওদের মতো বয়সে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি বলে তাড়াতাড়ি প্রোডাকশন ম্যানেজার হয়েছি। এই বাবাইরা প্রযোজকদের বলে রেখে রেখেছে, টেকনিশিয়ান আমরাই দেবো যে কোনও কাজে। তাই 70 জন প্রোডাকশন ম্যানেজার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজ করে চলেছে। বাকিরা কাজ পাচ্ছে না। অসুস্থ পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে ওরা ইন্ডাস্ট্রিতে।"

    পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিকের কথায়, "একটা ঘটনার কথা আমি বলব। আমার 2011 সালে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়। তারপরে আমি এক বছর কাজ করিনি। অ্যাক্রোপলিশের সঙ্গে তখন আমার এক্সক্লুসিভ কনট্র‍্যাক্ট ছিল যে ওদের সব কাজের প্রোডাকশন ম্যানেজার সে সময় আমিই । পারছিলাম না বলে আমি একজন ম্যানেজার দিতে চাই ৷ সানি রাজি হয়নি ৷ বলেছে আমি যখন পারব তখনই যেন যাই। ওরা গাড়ি পাঠাতো বাড়িতে। আমার অনুপস্থিতিতে আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট টাকাপয়সার ব্যাপারে একটা অস্বচ্ছতা করে। অঙ্কটাও কম না, 3 লক্ষ 82 হাজার টাকা।"

    পূর্ণেন্দুর কথায়, "আমি সানিকে বলি এটা যখন প্রমাণিত হয়েছে, আমি টাকাটা আদায় করে দেব। আমি 1 লক্ষ 82 হাজার টাকা আমাদের তৎকালীন ফেডারেশনের সম্পাদক পার্থ করের উপস্থিতিতে, আমাদের গিল্ডের সম্পাদক সুজিত হাজরার উপস্থিতিতে ফেরত দিই।..." তিনি আরও বলেন, " আমার ছেলে 6 বছর বয়স থেকে অভিনয় করে। কিছুদিন আগেও করেছে। কিন্তু নানা আছিলায় ওর কাজও আজ কেড়ে নিয়েছে। কাজ নেই ছেলের হাতেও। খুব সমস্যাতেই দিন চালাচ্ছি আজ ৷ ছেলেকে কলেজে ভর্তি করারও টাকা নেই ৷ বন্ধুদের সাহায্যে ভর্তি করব ৷ যতদূর জানি, বাবাইয়ের বউয়ের চাকরিও স্বরূপ, অরূপের সুপারিশেই হয়েছে।"

    ইতিমধ্যেই টলিউডে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারীর মতো তারকা বিধায়করা ৷ যেহেতু, সেই দায়িত্ব তাঁরা পেয়েছেন ৷ বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে ঘোলা জলে মাছ সকলেই ধরতে চাইছেন ৷ ফলে কে ঠিক আর কেইবা বেঠিক, তা বাছতে গাঁ না উজাড় হয়ে যায় !
  • Link to this news (eTV Bharat)