বঙ্গের উন্নয়নে নতুন মোড়, শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল-হাব করার ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
eTV Bharat | ০৬ জুন ২০২৬
শিলিগুড়ি, 6 জুন: দেশজুড়ে রেল পরিষেবার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ এবং বিশেষত শিলিগুড়ির কৌশলগত গুরুত্ব বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
শনিবারের বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা শিলিগুড়ির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল-হাব হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। রাজু বিস্তা বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের দিকে নজর রাখছেন। শিলিগুড়ি করিডর তথা চিকেন’স নেকের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে একাধিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।"
বৈঠকে যে সকল মূল প্রকল্পের উপর আলোকপাত করা হয়েছে তাতে, চিকেন’স নেক-এর নিরাপত্তা ৷ কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক অঞ্চলে 20 কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ বা টানেলের মাধ্যমে রেললাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ডবল লাইনিং ও সম্প্রসারণেরর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে ৷ ঠাকুরগঞ্জ–শিলিগুড়ি রুটে ডবল লাইনিং এবং শিলিগুড়ি–এনজেপি ডবল লাইনিং প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আলুয়াবাড়ি–এনজেপি সেকশনকে চার লাইনের করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বুলেট ট্রেন করিডরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ৷ দিল্লি-লখনউ-বারাণসী-পটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন করিডোরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র 6 ঘণ্টায় নেমে আসবে। বাগডোগরা-গুলমা বাইপাস প্রস্তাবিত রেললাইন জনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয় মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য বিকল্প পথের খোঁজ চলছে।
এদিনের বৈঠকে অতীতে বিভিন্ন রোড ওভার ব্রিজ এবং রোড আন্ডার ব্রিজ প্রকল্পগুলোর অনুমোদনে বিলম্বের বিষয়টিও উঠে আসে। এই প্রসঙ্গে সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, জননিরাপত্তা ও যোগাযোগের উন্নতির স্বার্থে এই প্রকল্পগুলো অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই ধরনের প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি এবং জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
2014 সাল থেকে রেল পরিষেবার খোলনলচে বদলেছে। দীর্ঘ সময়ে যেটুকু কাজ হয়নি, গত এক দশকে তা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডানকুনী থেকে সুরাত পর্যন্ত ‘পূর্ব-পশ্চিম ফ্রেট করিডোর’ সহ এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি তথা গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।