• চোখে-মুখে বয়সের ছাপ, নির্বাচনে ভরাডুবির পরে বন্ধ মমতার রূপচর্চা? প্রথম বার মুখ খুললেন কেয়া শেঠ
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • সাদা খোলের সুতির শাড়ি। পায়ে হাওয়াই চপ্পল। আর কাঁধে একটা শান্তিনিকেতনী ব্যাগ। সেই ছাত্র রাজনীতির সময় থেকে এটাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্রেডমার্ক পোশাক। সাংসদ হয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও, পরে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতেও বসেছেন পরপর তিন বার। পোশাকের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি নাকি রূপচর্চা শুরু করেছিলেন বলে একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বঙ্গের আকাশে-বাতাসে। শোনা যেত, ৮-১০ জনের দল নিয়ে নাকি প্রায়ই কালীঘাটের বাড়িতে যেতেন কলকাতার বিশিষ্ট কসমেটোলজিস্ট কেয়া শেঠ। সেটা কি সত্যি? মমতা এখন ক্ষমতায় নেই। অবশেষে সেই নিয়ে মুখ খুললেন কেয়া নিজেই।

    ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ২১৩ থেকে বিধায়ক সংখ্যা নেমে এসেছে ৮০-তে। তবে তৃণমূল নেত্রী এখনও পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করতে রাজি নন। ফলপ্রকাশের পরে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক করেছেন। ভিডিয়ো বার্তা দিয়েছেন। দু’টি কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মনে করছেন, হারের ছাপ তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট। মাত্র এক মাসেই শরীর যেন ভেঙে গিয়েছে। চোখ কোটরাগত। তখন থেকেই জল্পনা ডানা মেলতে শুরু করে। তা হলে কি হারের ধাক্কায় রূপচর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী?

    এই প্রশ্ন শুনে হেসেই উড়িয়ে দিলেন কেয়া। সরাসরি বলে দিলেন, ‘এটা একটা মিথ। সম্পূর্ণ মিথ। এর কোনও সত্যতা নেই।’ ২০১১-য় প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন মমতা। তার আগেই কেয়ার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল একটি মিডিয়া হাউস। সক্রিয় রাজনীতিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা কী ভাবে নিজেদের রূপচর্চা করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে কিছু টিপস দিয়েছিলেন তিনি। কেয়ার দাবি, ‘সেটাকেই রং চড়িয়ে বলে দেওয়া হয়, হবু মুখ্যমন্ত্রী নাকি এভাবেই রূপচর্চা করেন। পরে গুজব আরও ডালপালা মেলে। তিল থেকে তাল হয়। আমি হয়ে যাই তৃণমূল নেত্রীর মেকআপ আর্টিস্ট।’

    হারের পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির দিকে পা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে অনেক নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধেই। জোড়াফুল শিবিরের জয়ী বিধায়কদের একাংশও কার্যত মমতার হাত ছেড়েছেন। কেয়া অবশ্য ‘পাল্টি’ খাচ্ছেন না। তাঁর এক কথা, ‘আমি আগেও তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলাম না। এখনও নেই। কেউ যেন না ভেবে বসেন, তিনি হেরে গিয়েছেন বলে পাল্টি খাচ্ছি।’ সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাকে কেউ দেখেছেন? মঞ্চে ছিলাম না, গান গাইনি, রাস্তায় হাঁটিনি, নাচিনি। আমার সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।’

    তবে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁর আশপাশে থাকেন, তাঁরাও অনেকে কেয়া শেঠের নামে এই গুজব ছড়িয়েছিলেন বলে দাবি রূপচর্চা বিশেষজ্ঞের। কেয়ার স্পষ্ট কথা, ‘আমার কালীঘাটের মলের সামনে ডাস্টবিন তৈরি করেছে। বহুবার বলেছি। কিছু লাভ হয়নি। বারুইপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন। পাইনি। সিঙ্গুরে প্রোজেক্ট আটকে রয়েছে। অনেক সমস্যায় পড়েছি।’ বোঝাতে চাইলেন, তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা থাকলে, এই ধরনের সমস্যায় তাঁকে পড়তেই হতো না। তুড়ি মেরে সমাধান করে দিতেন তৃণমূল নেত্রী নিজেই। তবে হারের ছাপ যে তৃণমূল নেত্রীর চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে সেই কথা মেনে নিলেন কেয়া। তাঁর কথায়, ‘মানসিক ছাপ চেহারায় পড়ে। তিনি একটা পজিশনে ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেটা বোঝা যাচ্ছে।’

    তবে রূপচর্চা বিষয়টাই ব্যক্তিগত বলে মনে করেন কেয়া। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘সাধারণ মানুষ হোক কিংবা মন্ত্রী বা ভিআইপি, তিনি সাজবেন না সাজবেন না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বোঝাতে চাইতেন, তিনি এই ধরনের কিছু করেন না। কিন্তু যদি করেনও, সেটা তাঁর বিষয়।’ তবে নতুন সরকারের কাছে অনেক আশা রয়েছে কেয়ার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর আর্জি, ‘আগের সরকার কিছুই করেনি। আশা করি, নতুন সরকার বাংলায় ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করবেন। ছোট ছোট শিল্পগুলো যেন হারিয়ে না যায়।’

  • Link to this news (এই সময়)