• বন্দুক দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকার ইট চুরির অভিযোগ, অনুব্রতর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় FIR
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলো শান্তিনিকেতন থানায়। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় ইটভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি অনুব্রত।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের আদিত্যপুরের পাথরঘাটা গ্রামে শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল এবং তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার দেবপ্রসাদ রায়ের একটি ইটভাটা রয়েছে৷ অভিযোগ, ২০২১-এ বিপুল ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। তার পরেই কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ১০০টি ট্রাক্টর নিয়ে ভাটায় চড়াও হন তৃণমূলকর্মীরা। অভিযোগ, বন্দুক নিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করেন তাঁরা।

    ঘটনার পরেই শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন ইটভাটার মালিক শুভেন্দু। কিন্তু পুলিশ FIR নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ তাঁর। বাধ্য হয়ে বীরভূমের তৎকালীন জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।

    ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পরে অনুব্রত, মামন শেখ সহ-১৩ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভেন্দু। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এই প্রথম সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলো বলে জানা গিয়েছে৷

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে লুটপাট, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘পার্টি অফিস তৈরির সময়ে ইট চেয়েছিল। দিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও প্রায়ই টাকা চাইত। দিতে পারিনি বলেই ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হই।’ নিজেকে বিজেপি সমর্থক বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘বিজেপিকে সমর্থন করি জানতে পারার পরেই আমার ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে। আমার ব্যবসায়িক পার্টনার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখন শুধু চাই, অন্তত টাকাগুলো উদ্ধার হোক।’ এই প্রসঙ্গে অনুব্রতকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি। উত্তর দেননি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও।

  • Link to this news (এই সময়)