মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। আর আজ তাঁর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ওডিশা সরকারের ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুন্ঠ নাথ বেহরা কি লটারি জিতেছেন? আয়বহির্ভূত সম্পত্তির তল্লাশিতে নেমে শনিবার তাঁর ব্যাঙ্কের লকার থেকে ২ কোটি টাকা নগদ, ৫টি বহুতল এবং ১৪টি জমির প্লটের কাগজপত্র উদ্ধার করলেন ভিজিল্যান্স অফিসাররা। তাঁর বাড়ি এবং একাধিক সম্পত্তিতে এখনও তল্লাশি চলছে।
বৈকুন্ঠর সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। তাঁর অনেক সহকর্মীও ভিজিল্যান্সে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই পরোয়ানা জারি করে ভুবনেশ্বরের বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালত। তার পরেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সুপার, ইন্সপেক্টর এবং অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে তৈরি একটি একটি দল হানা দেয় বৈকুন্ঠের ডেরায়। চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, যাজপুর জেলার ধর্মশালা, বারিপদা, বালিগুড়ায় তাঁর সরকারি বাসভবন এবং অফিস-সহ মোট ৯টি জায়গায় একযোগে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশিতে বৈঠকুন্ঠের বাড়ি থেকে নগদ ২ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মিলেছে ২ কোটি টাকা। বৈকুন্ঠ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যের নামে ৫টি বহুতল আবাসনেরও হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি চারতলা বাড়ি রয়েছে। শুধু তাই নয়, ভুবনেশ্বর এবং যাজপুর মিলিয়ে মোট চারটি বাড়ির হদিশ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। বৈকুন্ঠের ১৪টি জমিরও সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের অভিজাত এলাকায় ৭টি প্লট রয়েছে। বাকিগুলি রয়েছে যাজপুর এবং বারিপদায়। এছাড়াও সোনার গয়না, ফিক্সড ডিপোজিট, ডাকঘরে সঞ্চয় প্রকল্পে জমা টাকা, বিভিন্ন বিনিয়োগেরও সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সে সবের মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। জমি ও সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্যও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন বৈকুন্ঠ। তার পরে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দায়িত্ব সামলানোর পরে চলতি বছরের শুরুর দিকে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হন তিনি। একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, দামী জমি, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের সূত্র ধরে আপাতত তদন্ত এগোচ্ছে। তবে তল্লাশি এবং উদ্ধার হওয়া সম্পদের বাজারমূল্য নির্ধারণের পরেই তাঁর সম্পদের প্রকৃত মূল্য জানা যাবে।