• বিজিবির মদত! বিএসএফ রুখল অনুপ্রবেশের চেষ্টা
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সিনহা, বেরুবাড়ি

    কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের মতো একই ঘটনা এ বার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নগর বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়পুর সীমান্তে। শুক্রবার মেখলিগঞ্জের চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশিকে জি়রো পয়েন্টে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁরা ভারতে ঢোকার সুযোগ খুঁজছিলেন। শনিবার একইরকম ভাবে জয়পুরে জি়রো পয়েন্টে দুই শিশু ও এক মহিলা–সহ ১০ জন বাংলাদেশিকে বসে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জওয়ানরা জোর করে তাঁদের ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। চ্যাংড়াবান্ধার মতো এখানেও বিএসএফ তা রুখে দিয়েছে এ দিন। সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে বিএসএফের পাশাপাশি স্থানীয়রাও রাত জাগছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নগর বেরুবাড়ির জয়পুরের জি়রো পয়েন্টে শুক্রবার রাত থেকে ১০ জন বাংলাদেশি বসে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওঁরা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিজিবির মদতে ভারতে ঢোকার মতলব এঁটেচিলেন তাঁরা। কিন্তু বিএসএফ ও এলাকার মানুষজন সজাগ থাকায় জিরো পয়েন্টে আটকে থাকতে হয় তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দা তজিবুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি নজরে আসার পরেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন বিএসএফ জওয়ানরা। আপাতত সকলকে জিরো পয়েন্টে আটকে রাখা হয়েছে। আমাদেরও সীমান্তের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না।' আর এক বাসিন্দা মহম্মদ আনসারুল বলেন, 'গোটা দিন ধরেই ওদের ওখানে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। বিএসএফ–বিজিবির ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। তাতে নাকি বিজিবি ওদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছে।' অন্তুপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইসলামের বক্তব্য, 'বাংলাদেশের নাগরিকদের বহু অত্যাচার সহ্য করেছি। এত দিন ওরা পার পেয়ে গিয়েছে। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। সুতরাং ভয়ের কোনও কারণ নেই।' নগর বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রমীলা বর্মন বলেন, 'জি়রো পয়েন্টে কিছু বাংলাদেশি বসে আছেন বলে খবর পেয়েছি। পুরো বিষয়টি বিএসএফ দেখছে।' যদিও এ বিষয়ে কোনও খবর পাননি বলে জানান সদর বিডিও বিপ্লবকুমার বিশ্বাস।

    মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশিদের ধরে আর জেলে ঢোকানো হবে না। সোজাসুজি ও পারে ফেরত পাঠানো হবে। তাঁর ঘোষণার পরেই এ দেশে নাম-পরিচয় পাল্টে থাকা বাংলাদেশিরা তাঁদের দেশে ফিরে যেতে তৎপর হয়ে ওঠেন। হাকিমপুর সীমান্তে বহু বাংলাদেশিকে জড়ো হতে দেখা গিয়েছিল কয়েক দিন আগে। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে পুশব্যাকও করা হয়। প্রথমে কোনও সমস্যা দেখা না দিলেও পরে বিজিবি নিজেদের দেশের লোকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে। এমনকী, পান্টা বাংলাদেশিদের এদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করতে থাকে। ভারতের পুশব্যাক ভেস্তে দিতেই বিজিবির এই পরিকল্পনা বলে অভিমত কূটনীতিকদের। যদিও বিএসএফের তৎপরতায় এখনও 'পুশইন'–এ সফল হতে পারেনি বিজিবি।

    নগর বেরুবাড়ির মতো এ রাজ্যের সীমান্তে থাকা বাসিন্দারা বাংলাদেশিদের উৎপাতের হাত থেকে বাঁচতে বিএসএফের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কাঁটাতারহীন বেরুবাড়িতে শুধু পাশে থাকা নয়, বিএসএফের সঙ্গে পালা করে রাত জাগছেন গ্রামবাসীরাও।

    এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের 'পুশইন'–এর ৮টি চেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার অবশ্য বিজিবি দাবি করেছিল, তারা ১০টি 'পুশইন'–এর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। শনিবার বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের এক কূটনীতিক বলেন, 'অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাতে হলে প্রথমে তাঁদের নাম, ঠিকানা ও পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট দেশকে অবহিত করার নিয়ম। গোটা বিশ্বেই এই রীতি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশই এই রীতি মানছে না।'

  • Link to this news (এই সময়)