এই সময়: কড়া নাড়ছেন তৃণমূলের একদল নেতা। তবে তাঁদের জন্য গেরুয়া শিবিরের দরজা খোলা হবে না বলে ফের স্পষ্ট বার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য! বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জোড়াফুলের কোনও নেতা যদি গেরুয়া শিবিরের কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কিংবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেন বা বাড়িতে গিয়ে হাজির হন এবং গেরুয়া শিবিরের ওই নেতা যদি রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে আলাপচারিতা সারেন, তবে তার মধ্যে বড় কোনও বিচ্যুতি আছে বলেও মনে করেন না তিনি। শমীক শনিবার সোশ্যাল িমডিয়ায় এক বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক দল। হরিনাম সংকীর্তনের দল নই। পলিটিক্যাল পার্টি, ব্যান্ড পার্টি নই। আমাদের একটা সৌজন্য আছে। রাজনৈতিক রুচিবোধ রয়েছে। িদগ্ভ্রান্ত কিছু মানুষ যদি এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করেন, তাঁরা যদি ফোন করেন, ফোন ধরাও তো একটা ভদ্রতা, ধরা উচিত। কেউ যদি বাড়িতে দেখা করতে আসেন, তাঁকে তো বসানো উচিত, চা খাওয়ানো উচিত। সেটা যদি আমাদের কেউ করে থাকেন, করেছেন। তবে এটা মনে করার কোনও কারণ নেই যে, তাঁদের বিজেপি নিয়ে নেবে। দরজা এখন বন্ধ।’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং আখরুজ্জমানকে বিরোধী সচেতক নির্বাচন করে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যে কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছেন। তৃণমূলের সংসদীয় টিমেও ফাটলের আশঙ্কা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে গত এক মাসে কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুখেন্দুশেখর রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বেসুরো কথা বলেছেন। ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিতে হাতেগোনা ক’জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। কাল, সোমবার শুরু হওয়া সপ্তাহেই জোড়াফুলের সংসদীয় দলে ফাটল ধরতে পারে। কাকলি শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা তাঁর মতো একজন কি শুধু নিজের স্বার্থের কথা ভাবছেন? এ দিন আবার তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ করব, কোনও প্রাক্তন সাংসদ অথবা বিধায়ক যেন আমাকে নিয়ে মন্তব্য না করেন। নিজের বক্তব্য নিজেই তুলে ধরার ক্ষমতা আমার রয়েছে।’
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, লোকসভার অন্তত ১৫ জন সাংসদ কালীঘাটের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। পৃথক ব্লক তৈরির প্রস্তুতিও সেরে রেখেছেন তাঁরা। রাজ্যসভায় জোড়াফুলের টিম সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে দিল্লিতে জোড়াফুলের লোকসভার একদল সাংসদ রয়েছেন। এই সাংসদরা যদি সংসদীয় নিয়ম মেনে, বৈঠক করে, স্বাক্ষরিত রেজ়োলিউশন লোকসভার অধ্যক্ষর কাছে জমা দেন, তা হলে অধ্যক্ষ সেই রেজ়োলিউশনের বক্তব্য খতিয়ে দেখতে পারেন। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তৃণমূলের রাজ্যসভার টিমের কয়েকজনও বেসুরো হয়েছেন, যাঁদের ভাবমূর্তি মোটের উপরে খারাপ নয় বলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য।
তা হলে তৃণমূলের সংসদীয় টিম কি ভেঙে গিয়ে পরিষদীয় টিমের মতো নতুন ব্লক তৈরি করবে? নাকি সংসদে সমীকরণ ভিন্ন হবে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ব্যাখ্যা, শমীক দরজা এখন বন্ধ থাকার কথা বলেছেন। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি রাজনৈতিক দল। ফলে দরজা এখন বন্ধ থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে কারও জন্য দরজা যে খুলবে না, তা হলফ করে বলা যায় না। তবে জোড়াফুল নেতাদের পাইকারি হারে দলে নিয়ে বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণে’র কোনও সম্ভবনা নেই।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার আচমকা দিল্লি গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। দিল্লিতে অভিষেকের কী কর্মসূচি রয়েছে, তা–ও স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ নেতাদের পর্যবেক্ষণ, সংসদীয় টিমে ফাটলের মেরামত করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অভিষেক দিল্লি গিয়েছেন। তৃণমূলের এই ঘরোয়া আগুনে গেরুয়া শিবির হাওয়া দিচ্ছে বলে কালীঘাটের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও শমীক এ দিন সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় বলেছেন, ‘তৃণমূল ভাঙার ছিল, তাই ভাঙছে। এবড়ো–খেবড়ো ভাবে ভাঙছে। ভাঙার একটা বিজ্ঞান আছে, ভাঙা শিখতে হয়, অপরূপ ভাবে ভাঙা, গড়ার থেকেও যা মূল্যবান কখনও কখনও। কিন্তু দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির এর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। মতাদর্শহীন, লক্ষ্যহীন একটি জনগোষ্ঠী যদি নিজেদের রাজনৈতিক দল বলে পরিচয় দেয়, তারা তো এই ভাবেই ভেঙে যায়।’