৬ হাজার টাকা মাসিক বেতন থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, তদন্তকারীদের স্ক্যানারে ওড়িশার ইঞ্জিনিয়ার
বর্তমান | ০৭ জুন ২০২৬
ভুবনেশ্বর, ৭ জুন: কর্মজীবনের শুরু ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে। আর আজ তার সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ওড়িশা সরকারের ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠ নাথ বেহরা। তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ভিজিল্যান্স বিভাগ। যা দেখে কার্যত চক্ষু চড়ক গাছ আধিকারীকদের।
শনিবার বিশেষ অভিযানে নেমে তদন্তকারীরা বৈকুণ্ঠের ব্যাঙ্ক লকার ও বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, একাধিক বহুতল আবাসন এবং জমির নথি উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর অ্যাকাউন্ট ও লকার মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সূত্রের খবর, বৈকুণ্ঠের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সহকর্মীদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভুবনেশ্বরের বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালত তল্লাশির নির্দিশ দেয়। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সুপার, ইন্সপেক্টর এবং অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল একযোগে তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালায়। চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, যাজপুর জেলার ধর্মশালা, বারিপদা এবং বালিগুড়া-সহ মোট ৯টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল তাঁর সরকারি বাসভবন, ব্যক্তিগত বাড়ি এবং অফিস।
তল্লাশিতে বৈকুণ্ঠ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ৫টি বহুতল আবাসনের খোঁজ মিলেছে। ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে প্রায় ১০,৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি চারতলা বাড়িও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া ভুবনেশ্বর ও যাজপুর জেলায় আরও কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। শুধু বাড়িই নয়, বৈকুণ্ঠের নামে ১৪টি জমির প্লটের নথিও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের অভিজাত এলাকায় রয়েছে ৭টি প্লট। বাকি জমিগুলি যাজপুর ও বারিপদা অঞ্চলে রয়েছে বলে জানতে পারে তদন্তকারীরা। এছাড়াও সোনার গয়না, ফিক্সড ডিপোজিট, ডাকঘরের সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের খোঁজ মিলেছে। উদ্ধার হওয়া সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জমি ও বাড়িগুলির বর্তমান বাজারদরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন বৈকুণ্ঠ নাথ বেহরা। পরবর্তী সময়ে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর চলতি বছরের শুরুতে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন।
তদন্ত এখনও চলছে। ভিজিল্যান্স আধিকারিকদের মতে, সমস্ত সম্পদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হলে বৈকুণ্ঠ নাথ বেহরার মোট সম্পত্তির পরিমাণ এবং আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব আরও স্পষ্ট হবে।