• শালবনী পঞ্চায়েত সমিতি: মমতার প্রথমদিনের সৈনিক নেপালের ইস্তফা
    বর্তমান | ০৭ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দিনকয়েক আগেই বিজেপির বিজয় মিছিল শেষে তাঁর বাড়িতে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা নেপাল সিংহ শনিবার আচমকা শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক। বামেদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও জঙ্গলমহলে জোড়াফুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে নেপালবাবুর অবদান যে কম নয়, তা মানেন নেত্রী স্বয়ং। মাওবাদী আন্দোলনের সময় তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গলমহলের পিড়াকাটা, কাশীজোড়া, মধুপুর, জয়পুর, কয়মা, ভীমপুর থেকে লালগড় পর্যন্ত চষে বেড়িয়েছেন শালবনীর বাসিন্দা নেপালবাবু। 

    ১৯৯৮ থেকে ২০২৪, টানা ২৬ বছর শালবনী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে তাঁকে শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি করে দল। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে জেলার রাজনীতিতেও তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে দুঃখ করতেন নেপালবাবু। এদিন মেদিনীপুর সদরের মহকুমা শাসকের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন সত্তরোর্ধ্ব নেপালবাবু। শারীরিক কারণে এই ইস্তফা বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে কিছুটা অভিমানের সুরে বলেন, ‘আর পারছি না। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।’ দলের হারে চরম হতাশ, হাবেভাবে বুঝিয়ে দেন তিনি। উল্লেখ্য, টানা ২৬ বছর শালবনীতে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছিলেন তিনি। 

    পালবাবু বলেন, একসময় কংগ্রেস করেছি। প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে শিশির অধিকারী, সবার সঙ্গেই কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। তৃণমূলে থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেও কাজ করেছি জঙ্গলমহলে। মেদিনীপুরের সকলেই জানেন, শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল। যদি তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যাওয়ার হত, তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে যেতাম, অন্যদের মতো। দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি কখনও। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)