• কৃষ্ণনগরে স্কুল হস্টেলের বাথরুম থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ০৭ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শনিবার সকালে কৃষ্ণনগরের কুইন্স উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেলের বাথরুম থেকে এক ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সঞ্জনা মণ্ডল(৭)। সে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। মৃত শিশুর পরিবারের লোকজন কৃষ্ণনগরের সন্ধ্যাপাড়া এলাকায় থাকেন। মেয়েটির মা কাজের সূত্রে গুজরাতে থাকেন। মেয়ের খবর পেয়ে তার সৎ বাবা অনিমেষকুমার সাহা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর অনুমান, সঞ্জনাকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এটা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানা এলাকায় কুইন্স উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একটি হস্টেল আছে। সেখানে বেশকিছু ছাত্রী থাকে। সঞ্জনাও ওই স্কুলের হস্টেলে প্রায় দেড় বছর ধরে ছিল। শুক্রবার বিকালে সঞ্জনার সৎ বাবা তাকে স্কুলের হস্টেলে রেখে আসেন। শনিবার ভোরে স্কুলের ছাত্রী ও শিক্ষিকারা দেখতে পান বাথরুমের ভিতরে একটি বালতির মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে রয়েছে সঞ্জনা। স্কুলের পক্ষ থেকে পুলিশ ও সঞ্জনার বাবাকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়।

    স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তন্বী দে সরকার বলেন, হস্টেলের বাথরুমে একটি বাচ্চার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। আমরা পুলিশকে সবরকমভাবে সাহায্য করব। মেয়েটি প্রায় দেড় বছর ধরে এই স্কুলের হস্টেলে রয়েছে। মাঝে বাড়ি গিয়েছিল। শুক্রবারই তাকে হস্টেলে দিয়ে যায় তার বাবা। আমরা স্কুলের বাচ্চাদের কাউকেই বাথরুমে একা ছাড়ি না। তাদের সঙ্গে কাউকে পাঠানো হয়। কিন্তু, রাতে বাচ্চা মেয়েটি যদি কাউকে না বলে বাথরুমে চলে যায়, তাহলে আমাদের তো কিছু করার নেই। রাতে সবাই ঘুমাচ্ছিল। মেয়েটি হয়তো কাউকে ডাকেনি কিংবা ডাকলেও কেউ জাগেনি। কী ঘটনা ঘটেছিল তা বুঝতে পারছি না।

    মেয়েটির সং বাবা জানান, সঞ্জনাকে শুক্রবার দুপুরে স্কুলের হস্টেলে রেখে এসেছিলাম। তখন তো সব ঠিকঠাকই ছিল। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ স্কুল থেকে আমাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি আসতে বলা হয়। পরে আবার আমি ফোন করলে জানানো হয় সঞ্জনা হস্টেলের বাথরুমে পড়ে মারা গিয়েছে। তা শুনেই স্কুলে পৌঁছে দেখি সঞ্জনার নিথর দেহ বাথরুমে পড়ে রয়েছে। আমি হাত দিয়ে দেখতে গেলে দিদিমণিরা বারণ করেন। হাসপাতালে ডাক্তার যখন হাতটা দেখে তখন দেখি অনেকটা কাটা রয়েছে। আমার মনে হচ্ছে ওকে কেউ খুন করেছে। পুলিশের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

    ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল চত্বরে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।
  • Link to this news (বর্তমান)