সংবাদদাতা, খাতড়া: ‘ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েও দুর্নীতির তদন্ত না হওয়ায়, রানিবাঁধের রুদড়া পঞ্চায়েতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে পঞ্চায়েত অফিসে তালা দিলাম। যতদিন না পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার হচ্ছে এবং দোষীদের শাস্তি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত বন্ধ থাকবে।’ এই পোস্টার সাঁটিয়ে পঞ্চায়েত কর্মীদের বাইরে বের করে শুক্রবার রুদড়া পঞ্চায়েতের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে দেখান পঞ্চায়েতেরই বিজেপি সদস্য সহ স্থানীয় গেরুয়া নেতৃত্ব। পরে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী খুদিরাম টুডুর সঙ্গে কথা বলে তদন্তের স্বার্থে সাত দিন সময় দেওয়ার কথা বললে পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। তবে কাজ না করে টাকা তোলা বা পঞ্চায়েতের কাজে দুর্নীতির দাবি স্পষ্টভাবে মানতে নারাজ রুদড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত রুদড়া পঞ্চায়েতে মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন তৃণমূল এবং ৫ জন বিজেপির। প্রধান ও উপপ্রধান দু’জনেই তৃণমূলের। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য থেকে স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ করেন ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পঞ্চায়েতে এসবিএম, আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করেই টাকা তোলা হয়েছে। আবার কোথাও কাজের বিল মিটিয়ে দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে প্রতি বুথে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে এবং বাকি অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি সদস্যরা। রুদড় পঞ্চায়েত সদস্য সম্রাট মাহাত বলেন, পঞ্চায়েতের দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে গত ১ জুন রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় শুক্রবার দুপুরে পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছি। তাঁদের আরও অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি কিছু কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার। তবে এদিন আমরা পঞ্চায়েতে তালা দিলেও, আমাদের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী খুদিরাম টুডু তদন্ত করে দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য সামনে আনার ব্যাপারে আরও সাতদিন সময় নিয়েছেন। তাই মন্ত্রীর কথা মেনে পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতির তদন্ত সামনে না এলে ফের আন্দোলনের পথে নামব আমরা। এবিষয়ে রুদড়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুচিত্র কিস্কু বলেন, ওঁরা পঞ্চায়েতে তালা দিয়েছিলেন। পরে বিডিও সহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে তালা খোলা হয়। তবে প্রধান বলেন, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ সহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি খতিয়ে