শওকতের গ্রেপ্তারিতে ‘মাছ চোর’ গান বাজিয়ে দিনভর উল্লাস, জমি ও ভেড়ি দখলের অভিযোগ
বর্তমান | ০৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হতেই অভিযোগের পাহাড় সামনে আসতে শুরু করেছে। গায়ের জোরে লেঠেল বাহিনী দিয়ে জমি-ভেড়ি দখল করার মতো অভিযোগ নিয়ে এবার সরব হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ বলছেন, জোর করে বছরের পর বছর মৌখালি এলাকায় বিঘের পর বিঘে সরকারি জমি জবরদখল করে রেখেছিলেন শওকত। কারও দাবি, বাড়ির মুরগি, ছাগল পর্যন্ত জোর করে নিয়ে যেতেন। অনেক সাধারণ মানুষের জমিও বেহাত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই দখল হওয়া জমি ফেরত পাওয়ার আশায় বহু জমিহারা। এদিকে, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গ্রেপ্তার হতেই উৎসবে মেতেছে আইএসএফ। মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন নেতারা, বেগুনি আবিরও মেখেছেন অনেকে। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের পর এনআইএ’র নিউটাউনের দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয় শওকতকে। শনিবার সকালে সেই দপ্তরের বাইরে ‘শওকত তুই মাছ চোর....’ গান বাজিয়ে সারাদিন চলল উল্লাস। সেখানে অনেক আইএসএফ কর্মী মাছ আর ডিম নিয়ে এসেছিলেন। শওকতকে মাছ খাওয়াবেন বলে কটাক্ষ কর্মীদের। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সুযোগে যা ইচ্ছে তাই করেছেন প্রাক্তন এই তৃণমূল বিধায়ক, এমনই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। এতদিন ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারত না। এবার তাঁর কীর্তিকলাপ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন সবাই। তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খান খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শওকত, এমনই অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর। তাঁকে এদিন দেখা গেল আরাবুল ও অন্যান্য আইএসএফ কর্মীদের মিষ্টি খাওয়াতে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, শওকতের পাপের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। উনি যাতে জেল থেকে না বেরোতে পারে সেটা প্রশাসনকে দেখতে হবে। ওর ফাঁসির দাবি করছি।
সূত্রের খবর, বাম আমলে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে শ্বশুর ও দুই শ্যালকের সঙ্গে ভেড়ির দারোয়ান হিসেবে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে জীবন শুরু হয়েছিল শওকতের। এরপর সিপিএমের রাজ্য কমিটি তথা বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার এক সদস্যের (এখন প্রয়াত) সংস্পর্শে এসে লালপার্টিতে অনুপ্রবেশ। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় সিপিএম নেতাদের কোণঠাসা করে দিয়ে অনুগামীদের নিয়ে একটা সমান্তরাল গোষ্ঠী তৈরি করেন শওকত। তাতে মুনাব্বার, গোলাম সহ একাধিক নেতা ছিল। এলাকায় ভেড়ি দখল, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটে লুট সহ সন্ত্রাসের ব্যাপক অভিযোগ ছিল শওকতের বিরুদ্ধে। সিপিএমের ওই নেতার ‘ছায়াসঙ্গী’ বলে পরিচিত ছিলেন শওকত।
২০১১ সালে পালাবদল হওয়ার পর ওই সিপিএম নেতার পাশাপাশি শওকতও তৃণমূলে যোগ দেন। বাম আমলে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি শওকত, তৃণমূল আমলে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। ক্যানিং পূর্ব থেকে বিধায়ক হতেই তৃণমূলে ব্যাপক গুরুত্ব বাড়ে এই নেতার। সর্বস্তরের নেতাদের ম্যানেজ করে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পান বলে জানা গিয়েছে। এক সময় ক্যানিং মহকুমার বাইরে গোটা দক্ষিণ পরগনা জেলায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন প্রাক্তন এই বিধায়ক। সাতগাছিয়া বিধানসভার পর্যবেক্ষক হয় তাঁকে। দায়িত্ব দেওয়া হয় ভাঙড় বিধানসভারও। ক্রমে যেন সর্ব শক্তিমান হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ক্যানিং পূর্ব এবং ভাঙড়ে যেন তিনিই শেষ কথা। মমতা-অভিষেক, দু’জনেরই কাছের লোক ছিলেন শওকত। এদিন আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, ভাঙড়ে যত খুন, অত্যাচার সন্ত্রাস হয়েছে তার মূল কারিগর শওকত মোল্লা। তাই সব ঘটনার তদন্ত হোক। ওর যাতে ফাঁসি হয়, পুলিশের কাছে সেই আবেদন করছি।