সংবাদদাতা, বনগাঁ: রেশনে নিম্নমানের গম দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রাহকরা। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে গোপালনগর থানার চালকি সাতবেড়িয়া এলাকায়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে আসে গোপালনগর থানার পুলিশ ও খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। আধিকারিকরা তদন্তের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। শনিবার সকালে রেশন ডিলার প্রদীপ দত্তের দোকান থেকে গম দেওয়া হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁদের বেশ কয়েকজন ওই গম নিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখেন, তাতে সিমেন্ট, বালি, ছোটো ছোটো পাথরের টুকরো মিশে রয়েছে। কার্যত খাওয়ার অযোগ্য সেই গম। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। রেশন দোকানে এসে গম মাটিতে ঢেলে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রমীলা দেবনাথ নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে দেখি, গমের মধ্যে বালি, নুড়ি সব মিশে রয়েছে। মিশে আছে ছেঁড়া কাপড়ের টুকরোও। এই গম খাওয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই।’ গ্রাহকদের আরও দাবি, নোংরা গম নিতে অস্বীকার করায় রেশন দোকানের কর্মচারী তাঁদের বলেন, ‘মোদি যে গম পাঠিয়েছেন, সেই গমই নিতে হবে।’ সার্বিক বিষয়ে রেশন ডিলার প্রদীপ দত্ত বলেন, ‘গমে নোংরা আছে দেখে তা গ্রাহকদের না দিয়ে অফিসে জানানো উচিত ছিল। আমার কর্মচারী না দেখেই গম গ্রাহকদের দিয়ে দিয়েছে। ভুলবশত এটা হয়েছে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন খাদ্যদপ্তরের দুই আধিকারিক। গ্রাহকদের নোংরা মেশানো গম দেওয়ার জন্য রেশন ডিলারকে ভর্ৎসনাও করেন তাঁরা। আধিকারিকরা জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রেশনে গম দেওয়া হচ্ছে। গোডাউনে পড়ে থেকে থেকে গম নষ্ট হতে পারে। তবে ডিলারের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত ছিল। ওই গম কাউকে না দেওয়ার নির্দেশ দেন আধিকারিকরা। পরবর্তীতে গ্রাহকদের ভালো গম দেওয়া হয়। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘মানুষের খাবার নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না। দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুর্নীতি বা গাফিলতি দেখলেই কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। আধিকারিকরা ওখানে গিয়েছিলেন। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিজস্ব চিত্র