প্রয়াত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা সেলিম কুমার। শনিবার, রাত ১০টা নাগাদ কোচিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই শরীর খারাপ যাচ্ছিল অভিনেতার। মৃত্যুর আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্টেও রাখতে হয়েছিল সেলিমকে।
সেলিম কুমারের মৃত্যুর পরে ৬ জুন রাতে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, ‘তাঁকে বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া। এমনকী, ডায়ালিসিস-সহ অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসা চলাকালীনই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং বহু চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, কিডনির সমস্যার পাশাপাশি তিনি লিভার সিরোসিস এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজ়িজ়ে ভুগছিলেন। কয়েক বছর আগে সেলিম কুমারের লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেলিমকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সেলিম কুমারের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল থিয়েটার ও মিমিক্রির মাধ্যমে। যেখানে খ্যাতি অর্জনের পরে, তিনি ১৯৯৭ সালে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। ‘ইশতামনু নুরু ভাট্টাম’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। এর পরে সেলিম মালয়ালম সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন। হাস্যকৌতুক এবং নানা চরিত্র-নির্ভর অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন সেলিম।
‘সত্যমেব জয়তে’, ‘থেনকাসিপট্টিনম’, ‘ওয়ান ম্যান শো’, ‘ই পারক্কুম থালিকা’, ‘মীসা মাধবন’, ‘মাজাথুল্লিক্কিলুক্কাম’, ‘কুঞ্জিককুনান’, ‘কল্যাণরামন’ এবং ‘সিআইডি’-সহ একঝাঁক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সেলিম। ‘আচানুরাংগাথা ভিদু’-তে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন এবং পরবর্তীকালে ‘আদামিন্তে মাকান আবু’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার এবং কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন।