• রাস্তায় আবর্জনা ফেলার ভিডিয়ো ভাইরাল, ভয়াবহ ট্রোলের শিকার হয়ে আত্মঘাতী কলেজ পড়ুয়া
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • রাস্তায় আবর্জনা ফেলছিলেন। সেই সময়ে কেউ তাঁর ভিডিয়ো তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। শুরু হয় ভয়াবহ ট্রোল। তার পরেই শনিবার নিজের বাড়ি থেকে স্যামুয়েল ডি ব্রাগাঙ্কার (২৩) গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। গোয়ার মাপুসার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রোলের শিকার হয়েই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, স্যামুয়েল স্থানীয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মা ও দুই বোনের সঙ্গে থাকতেন। কয়েক দিন আগে বাড়ির আবর্জনা একটা প্লাস্টিকে মুড়ে রাস্তার ধারে ফেলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন।

    ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গোয়া পুলিশও। পরে তাঁকে নোটিসও পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন স্যামুয়েল। সমন পাঠানোর পরে কর্তৃপক্ষের সামনে হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে ট্রোল বন্ধ হয়নি। বরং তা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। গোটা ঘটনায় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি।

    এর মধ্যেই শনিবার স্যামুয়েলের ঘর থেকে গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান তাঁর বাড়ির লোক। প্রতিবেশীরাও উপস্থিত হন। তাঁরা ঘরে ঢুকে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্যামুয়েল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যামুয়েলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই তিনি নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ভাইরাল ভিডিও, পুলিশি পদক্ষেপ এবং ওই পড়ুয়ার মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)