• অবশেষে নতুন রেলপথ! মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় উচ্ছ্বাস লালগড়-গোপীবল্লভপুর-নয়াগ্রামে
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    পথ কতটা পেরোলে তবে ট্রেন পাওয়া যায়?

    গোপীবল্লভপুরের লোকজনকে প্রশ্নটা করলে উত্তর মিলবে, 'ঝাড়গ্রাম থেকে ট্রেন ধরতে গেলে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার যেতে হয়। আর প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পথ পেরোলে তবেই খড়গপুর রেল স্টেশন।'

    এই হয়রানি থেকে রেহাই পেতে এলাকায় রেললাইনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পেতে চলেছে ঝাড়গ্রাম জেলা! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার নবান্নের বৈঠক থেকে ঘোষণা করেছেন- লালগড়, গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামকে রেল-মানচিত্রে যুক্ত করা হবে।

    বলাই বাহুল্য, মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পরে উচ্ছ্বসিত তামাম ঝাড়গ্রাম। এখন লালগড়, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রামে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, রেলপথ তৈরি হলে জেলার প্রান্তিক এলাকাতেও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ট্রেনের জন্য ভোগান্তি হয়রানি কমবে। ঝাড়গ্রামের উত্তরে রয়েছে লালগড়। দক্ষিণে গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রাম। স্বাধীনতার এত বছর পরেও গোপীবল্লভপুরে রেললাইন তৈরি করা হয়নি। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম না থাকায় দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়েছে গোপীবল্লভপুর-সহ সুবর্ণরেখার তীরবর্তী এলাকা। বছর চারেক আগে গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল, বেলিয়াবেড়া-সহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে গঠন করে 'সুবর্ণরৈখিক রেলপথ সংগ্রাম কমিটি।' রেলের দাবিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার ডেপুটেশন দেন তাঁরা।

    এ বার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কাছেও গোপীবল্লভপুরে রেললাইন তৈরির দাবিও জানিয়েছিলেন ওই সংগঠনের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার গোপীবল্লভপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী রাজেশ মাহাতোর সঙ্গেও ওই বিষয়ে বৈঠক করেন তাঁরা। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীকে জানানোর আশ্বাসও দিয়েছিলেন রাজেশ। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত গোপীবল্লভপুরও। খড়্গপুর থেকে সাঁকরাইল, বেলিয়াবেড়া, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম হয়ে ওডিশার বারিপাদা পর্যন্ত প্রায় ৯৯.৮ কিলোমিটার রেলপথ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সুবর্ণরৈখিক রেলপথ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সত্যব্রত রাউত বলেন, 'চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসার মতো যে কোনও কাজেই রেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু, বিস্তীর্ণ এলাকার লোকজনকে ট্রেন ধরতে যেতে হয় সেই খড়গপুরে। গোপীবল্লভপুরের উপর দিয়ে রেলপথ নির্মাণ হলে কলকাতা ও ওডিশা-সহ দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।' সত্যব্রতর সংযোজন, 'এখানে রেলপথ গড়ে উঠলে শিল্পাঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সুবর্ণরেখার তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পর্যটক মানচিত্রে গোপীবল্লভপুরেরও গুরুত্ব বাড়বে।'

    অন্য দিকে, লালগড় এক সময়ে মেদিনীপুর বাজারের উপরে নির্ভরশীল ছিল। কংসাবতীর উপরে সেতু নির্মাণের পরে লালগড়ের সঙ্গে ঝাড়গ্রামের যোগাযোগ উন্নত হয়। তবে, লালগড়ের লোকজনকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য-যে কোনও ক্ষেত্রেই ট্রেনের জন্য ভরসা করতে হয় ঝাড়গ্রাম অথবা মেদিনীপুর রেল স্টেশনের উপরে। ফলে, লালগড়েও ট্রেনের দাবি দীর্ঘদিনের।

    ২০১১-১২ অর্থবর্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের ভাদুতলা থেকে পিড়াকাটা, লালগড় হয়ে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত রেলপথ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল রেল মন্ত্রণালয়। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী লালগড়কে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার ঘোষণায় খুশি লালগড়। লালগড় রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক সন্দীপ পাল বলেন, 'চিকিৎসার জন্য ভুবনেশ্বর বা কলকাতার যেতে হলে ঝাড়গ্রাম কিংবা মেদিনীপুরে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। লালগড়ে রেলপথ গড়ে উঠলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।' জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে সত্যব্রত বলেন, 'দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী। এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সহযোগিতা করবেন। আমরাও পাশে থাকব।'

  • Link to this news (এই সময়)