• প্রশাসনের নজর এড়িয়েই বেআইনি কাজ, নদীর চর থেকে মাটি চুরি বন্ধের আশ্বাস বিধায়কের
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • এই সময়, হলদিয়া: বালি চুরির মতো বেআইনি ভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে নদীর চরের মাটিও। বালি মাফিয়াদের দাপটে যে ভাবে নদীর বালি তুলে পাচার করা হয়। একই ভাবে নদীর চর থেকে বেআইনি ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই কাজ চলছে বলে অভিযোগ। এমনও অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যে তৃণমূলের সরকার থাকাকালীন শাসক দলের এক শ্রেণির নেতাকে তোলা দিয়েই অবাধে চলেছে ভাটার জন্য মাটি কাটা। এর ফলে সরকারের রাজস্বেরও ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি ওই সব এলাকা ঘুরে দেখেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজলী। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছেন তিনি।

    হলদিয়ার সুতাহাটা ব্লকের এরিয়াখালি, রামনগর প্রভৃতি এলাকায় হুগলি নদীর চরে দেদার মাটি কাটার ফলে নদীর ভাঙন মারাত্মক আকার নিয়েছে। অতীতে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। নদীগর্ভে চলে গিয়েছে চাষের জমি। গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়ে বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজলী সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিধায়কের কাছে স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু নেতা এবং স্থানীয় কুকড়াহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মদতে ইটভাটা মালিকরা এই কাজ করছেন। মৃন্ময় জানা, অখিলেশ মণ্ডল, সেখ রবিউল প্রমুখ গ্রামবাসীর দাবি, ইটভাটা মালিকরা তৃণমূলের নেতাদের তোলা দিয়ে অবৈধভাবে নদীর চরের মাটি চুরি করছেন। হুগলি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি ইটভাটা রয়েছে। বেআইনি ভাবে অনেক ভাটা মালিক নদীর চর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন। একটি ইটভাটার কর্মী বলেন, 'নদীর চর থেকে অবাধে মাটি কাটা হয়। আমরা ভাটার কর্মী মাত্র। এ ব্যাপারে যা বলার মালিক বলবেন।' এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল সদস্য থেকে তৃণমূল শাসিত কুকড়াহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত সব জেনেও চুপ। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনেদুপুরে চুরি হচ্ছে মাটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইটভাটার ম্যানেজারের অবশ্য দাবি, 'আমরা প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েই মাটি কাটছি। মাটি কাটা বন্ধ করা হলে ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে। বহু মানুষ কর্মহীন হবেন।'

    বিধায়ক বলেন, 'মাটি চুরির ঘটনায় তৃণমূলের একাধিক নেতা জড়িত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সব জানে। মাটি চুরি কাণ্ডে একটা অশুভ চক্র কাজ করছে। তবে অন্যায় কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।' স্থানীয় ভূমি দফতর এবং জেলা প্রশাসনের তরফে মাটি কাটার কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। বেআইনিভাবে মাটি কাটার জন্য সরকারের বিপুল পরিমাণে রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান ভূমি দফতর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক। যত্রতত্র মাটি কাটার ফলে বাড়ছে ভাঙন। ফলে বর্ষায় দুর্বল নদীবাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কায় এরিয়াখালির মানুষ। যদিও উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক। নদীবাঁধ দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)