এই সময়, হাওড়া: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উত্তর হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্পের কাজে গতি আসতে চলেছে। আজ, রবিবার থেকে সালকিয়া ও লিলুয়ার বামুনগাছির সংযোগকারী ঐতিহাসিক বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নতুন সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রেল ও প্রশাসন।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বেনারস ব্রিজ উত্তর হাওড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ ও অসংখ্য যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে সালকিয়া, লিলুয়া, বামুনগাছি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্যে যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত জীর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে বার বার সেতুর দুর্বল কাঠামোর বিষয়টি উঠে আসার পরে নতুন সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হয় পূর্ব রেল। রেল সূত্রের দাবি, নতুন সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়নি ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। এই কাজের জন্য সেতুর উপরে যানবাহন চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ প্রয়োজন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার অনুমতি চাইলেও, দীর্ঘদিন সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে অভিযোগ।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রশাসন, রেল এবং ট্র্যাফিক বিভাগের মধ্যে একাধিক বৈঠকের পরে ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তেরই প্রথম ধাপ হিসেবে আজ থেকে বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এর আগে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আপাতত টোটো, রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য হালকা যান চলাচল চালু রাখা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী প্রায় দু’মাস ধরে সেতুর সংযোগকারী অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলবে। এই সময়ে নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক ব্লক করা হতে পারে। তখন সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, নতুন সেতু খুব শিগগির যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তর হাওড়ার বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘গত সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, রেলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়নি। সেই কারণে বামুনগাছি-বেনারস ব্রিজ এবং বাঙালবাবু-চাঁদমারি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।’
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ সেতুর কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং যানজটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সেতু চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময় কমবে না, উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যদিও আগামী কয়েক মাস কিছুটা ভোগান্তি সহ্য করতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে, তবু অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়াই শ্রেয়। কারণ, বহু বছর ধরে অপেক্ষার পরে অবশেষে বেনারস ব্রিজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। এখন সবার নজর কাজের অগ্রগতির দিকে। নতুন সেতু চালু হলে, উত্তর হাওড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলেই আশা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।