বাংলায় ১ লক্ষ কোটির প্রকল্প রেলের, নন্দীগ্রাম-গঙ্গাসাগরেও চলবে ট্রেন
বর্তমান | ০৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের একমাসের মধ্যেই লক্ষ্মীলাভ বাংলার! প্রাপ্তির ঝুলি ভরাল রেলমন্ত্রক, বিবিধ রেল প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নির ঘোষণা করে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের ‘ফিল গুড’ আবহ টের পেতে শুরু করল বঙ্গবাসী। শনিবার নবান্ন সভাঘরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে রেল। বাংলাকে রেলমন্ত্রী ‘বুলেট ট্রেন’ উপহার দিয়েছেন। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে চলবে অত্যাধুনিক দ্রুততম এই ট্রেন। মাত্র ৬ ঘণ্টায় দেশের রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র।’ এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রোতে যুক্ত হতে চলেছে নয়া প্রজন্মের ৬০টি নয়া রেক। রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক প্রান্তিক এলাকা। এই তালিকায় রয়েছে হিলি, করিমপুর, জলঙ্গি, গঙ্গাসাগর, সুন্দরবন, এমনকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনি ক্ষেত্র নন্দীগ্রামও। পরিচিত এই কেন্দ্রগুলি রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে চলেছে। সব মিলিয়ে এ ধরনের ৬১টি নয়া রেল প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে এদিন। পাশাপাশি রেলের গতিকে আরও মসৃণ করতে রাজ্যজুড়ে ৫৩৮টি রেলওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বমানের ১০২টি অমৃতভারত রেল স্টেশন পেতে চলেছে রাজ্য।
রেলমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী একযোগে এদিন বিগত তৃণমূল জমানার সমালোচনায় সরব হন। শুভেন্দুবাবুর অভিযোগ, আগের সরকারের অসহযোগিতায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি। আর তাই মোদি সরকারের আমলে রেলের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন রাজ্যবাসী। কিন্তু এবার রেলকে সব রকম সহযোগিতা করবে রাজ্য। রাজ্যবাসী শীঘ্রই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ফলের স্বাদ পাবেন। রেলমন্ত্রীর পাশে বসেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ‘জেলাশাসকেরা রাজ্যের লক্ষ্য এবং দর্শন শুনুন, রেলকে গোটা রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। রেল জমি কিনতে টাকা দেয়। যেখানে দরকার, জমি আমরা কিনে রেলকে দেব!’ পরক্ষণেই আরও কড়া সুরে তিনি বলে ওঠেন, ‘রেল যেমন সহযোগিতা চাইবে, করতে হবে। ক্যালেন্ডার তৈরি করুন, কবে, কোন জায়গায় রেলের জমি দিতে পারবেন।’
রেলমন্ত্রী আবার বক্তব্যের শুরুতেই অভিনন্দন জানান শুভেন্দুকে। বলেন, ‘দেশকে যেভাবে বাঁচিয়েছেন, বাংলাকে বাঁচিয়েছেন, সেই জন্য আপনাকে অভিনন্দন। এবার রেলকর্মীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন।’ এরপর তৃণমূলের উদ্দেশে তিনি কটাক্ষ ছুড়ে দেন, ‘পূর্বতন রাজ্য সরকার প্রকল্পে অনুমোদন দিত না। চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ আটকাতে তারা কোর্টেও গিয়েছিল। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তা মানেনি।’ রেলমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘কলকাতাবাসী যাতে মেট্রোর সুবিধা না পান, তাই ওরা (তৃণমূল সরকার) গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সংসদে আমি ওদের বলেছিলাম বিকাশ-বিরোধী। ৪২ বছরে ২৮ কিলোমিটার পথ ছিল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো তৈরি করেছেন মোদিজি।’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজও দেখতে যান অশ্বিনী বৈষ্ণব।