• দিঘার পর্যটকদের জন্য দুর্দান্ত সুখবর! এবার আরও সহজে পৌঁছে যাওয়া যাবে সমুদ্র সৈকত
    News18 বাংলা | ০৭ জুন ২০২৬
  • : দিঘায় পর্যটকদের জন্য সুখবর। বিশেষ করে আগামী দিনে যে সকল পর্যটক দিঘার সমুদ্রের টানে অথবা জগন্নাথ মন্দিরের টানে দিঘা বেড়াতে আসবেন তারা ঝামেলার হাত থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। তার সব থেকে বড় কারণ হল দিঘায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ আবারও গতি পেল। অবশেষে কাটল দীর্ঘদিনের আইনি ও জমি সংক্রান্ত জটিলতা। পর্যটন নগরী দিঘার ট্রাফিক ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যাবে। দিঘা সীমান্ত থেকে রামনগর বাইপাস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটির কাজ জমি বিবাদের জেরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। প্রশাসনের লাগাতার প্রচেষ্টা ও স্থানীয় স্তরে আলোচনার পর অবশেষে সেই জট কেটেছে।

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা পর্যটকদের কাছে বরাবরই জনপ্রিয়। সৈকত শহর দিঘার জনপ্রিয়তার গ্রাফ প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে দিঘায় পুরীর আদলে তৈরি হওয়া জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য ইদানীং ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে। কিন্তু দিঘা সীমান্ত থেকে রামনগর পর্যন্ত সরু রাস্তার কারণে প্রায়শই পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে ফেঁসে থাকতে হত। উৎসবের দিনগুলিতে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিত। এই রাস্তাটি সম্প্রসারিত হলে সেই চেনা ভোগান্তি থেকে চিরতরে মুক্তি মিলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসন আগেই সচেষ্ট হয়েছিল দিঘার রাস্তা সম্প্রসারণে। কিন্তু সেই কাজ আটকে যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর রাজ্যে পালা বদলের পর সেই কাজ এবার গতি পেয়েছে।

    জমি জট কাটিয়ে কাজ শুরু হওয়ার প্রসঙ্গে জেলা শাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, “দিঘা সীমান্ত থেকে রামনগর বাইপাস পর্যন্ত রাস্তাটি এই অঞ্চলের লাইফলাইন। জমি সংক্রান্ত কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে কাজটি সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছিল। আমরা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে একটি সুষ্ঠু সমাধান সূত্রে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য জনস্বার্থ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ। আমরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই কাজ শেষ করতে দায়বদ্ধ। এই রাস্তাটি চওড়া হলে পর্যটক ও জগন্নাথ ভক্তদের যাতায়াত যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।”

    চার লেনের এই রাস্তা তৈরি হলে ওড়িশা সীমান্ত ও কলকাতার দিক থেকে আসা গাড়িগুলি কোনও রকম যানজট ছাড়াই সরাসরি দিঘায় প্রবেশ করতে পারবে। দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে ভক্তদের যে ঢল নামছে, তাঁদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও দ্রুত হবে। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলে দিঘার হোটেল ব্যবসা, স্থানীয় দোকানদার এবং সামগ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রভূত উন্নতি ঘটবে। প্রশাসনের এই তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দিঘার পর্যটন মহল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)