শওকত মোল্লাকে গ্রেফতারের পর সন্দেশখালিতে STF-র অভিযান। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের পুকুরে অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ। শাহাজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়ি-সহ সরবেড়িয়া, আকুঞ্জিপাড়ায়, কুমড়োখালি এবং মণিপুরেও চলল অভিযান। গভীর রাত পর্যন্ত STF-এর আধিকারিকরা রমজান মোল্লার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বাড়ির ভেতর, বাড়ির পাশে এবং বাড়ির পিছনে, বাড়ির ভিতরে প্রতিটি মোটরবাইক-সহ ছাদের ওপর জলের ট্যাঙ্ক পর্যন্ত তল্লাশি করে দেখেন আধিকারিকরা, কিন্তু বাড়িতে কিছুই পাওয়া যায়নি।
শনিবার সন্দেশখালির মণিপুরে শেখ শাজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা রবিন দাস ও গোপাল দাসের বাড়িতে এবং পুকুরে তল্লাশি করে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করে STF আধিকারিকরা। এরপর রবীন দাসকে খুঁজে না পেলেও তার ভাই গোপাল দাসকে গ্রেফতার করে STF, গোপাল দাসকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিনজনের সন্ধান মেলে, সেই তিনজনের মধ্যে অন্যতম এই রমজান মোল্লা।
তদন্তকারীরা চার জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মিলেছে ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। তার মধ্যে ১০টি বড় ও ৮টি ছোট আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠিক করে জানিয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ।গ্রেফতার হয়েছে ছ’জন। এসটিএফ তদন্তে জানতে পেরেছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশ থেকে জলপথে সন্দেশখালিতে নিয়ে এসেছিল শাহজাহান ও তার শাগরেদরা। জেলে যাবার পর শাহজাহানের আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিল তার আত্মীয় রমজান মোল্লা। আর কোথায় কোথায় আগ্নেয়াস্ত্র লুকনো রয়েছে, রমজান ও তার সহযোগীদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
রমজান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেশখালির সরবেড়িয়া বাজারে তার দ্বিতীয় দোকান-সহ দোতলা বাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোনও কিছু উদ্ধার হয়নি বাড়ি থেকে। তার পরিবারের সদস্যদের দোকান এবং বাড়ির দরজা কোনও কারণেই খুলতে বা ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন STF আধিকারিকরা। তবে এলাকার বাসিন্দাদের ধারণা, রমজান মোল্লা গ্রেফতার হওয়ার পরেই তার পরিবারের সদস্যরা তার বাড়িতে মজুত করা আগ্নেয়াস্ত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অত্যাচারে সারা গ্রাম ভয়ে কাঁপত। কারও স্বামী নিশ্চিন্তে ঘুমাত পারত না। রাতে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখাত, অত্যাচার চালানো হতও।