জন্মদিন হোক কিংবা বিবাহবার্ষিকীস জীবনের যে কোনও বিশেষ আনন্দঘন মুহূর্তে অনেকেই চান ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে। সামর্থ্য থাকলেও অনেক সময় উপযুক্ত জায়গার অভাবে সেই ইচ্ছেপূরণ হয়ে ওঠে না। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে। সরকারি উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘তিথি ভোজন’ নামের এক অভিনব কর্মসূচি। যার মাধ্যমে যে কেউ এখন নিজের বিশেষ দিনটি পালন করতে পারবেন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে। স্কুলের মিড-ডে মিলেই তাদের জন্য আয়োজন করতে পারবেন পছন্দের সব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পদের।
প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে মিড-ডে মিলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার অনেকটাই নির্ভর করে এই দুপুরের আহারের উপর। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ নির্দিষ্ট থাকায় প্রতিদিন খুব উন্নত মানের বা ভিন্ন স্বাদের খাবার দেওয়া স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই অভাব মেটাতেই ‘তিথি ভোজন’ কর্মসূচিকে হাতিয়ার করছে প্রশাসন। এর ফলে সমাজের আগ্রহী মানুষেরা তাঁদের আনন্দের দিনটি কচিকাঁচাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চমৎকার সুযোগ পাচ্ছেন।
কীভাবে করা যাবে এই আয়োজন? পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলাহীন। যিনি খাওয়াতে ইচ্ছুক, তাঁকে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পড়ুয়াদের কী খাওয়াতে চান এবং আনুমানিক খরচ কত, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বিদ্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। প্রধান শিক্ষকের সবুজ সংকেত মিললেই আর কোনও বাধা নেই। নির্দিষ্ট দিনে স্কুলের মিড-ডে মিলের রান্নাঘরেই রাঁধুনিরা তৈরি করবেন সেই বিশেষ খাবার।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, এটি নিঃসন্দেহে একটি অনন্য এবং সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর ফলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নিজেদের উৎসবের দিনে একঝাঁক কচি মুখের তৃপ্তির হাসি যে কারও মন ভরিয়ে দিতে পারে। প্রশাসন মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে পড়ুয়ারা যেমন পুষ্টিকর ও ভিন্ন স্বাদের খাবার পেয়ে খুশি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনের বিশেষ দিনটিও হয়ে উঠবে আরও বেশি আনন্দময় ও চিরস্মরণীয়।