ক্রমেই নিজেদের গর্জন বাড়চ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে এবার ককরোচ জনতা পার্টিকে তোপ দাগলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের যুবসমাজ বিদেশে বসবাসকারী কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়। ডিজিটাল যুগের শক্তি ব্যবহার করে তরুণদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
শনিবার রাঁচিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নীতীন। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুবসমাজ দেশ গড়ার কাজে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চায়। কিন্তু কিছু লোক দেশের যুবসমাজকে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা ভারতের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতিতে টানতে চান। তাঁদের আমি সতর্ক করে দিতে চাই যে, এই দেশের তরুণ-তরুণীরা ইতিবাচক রাজনীতিতেই যুক্ত হবে।” নাম না করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও নিশানা করেন তিনি। বলেন, “বিদেশে বসে কিছু লোক মনে করেন যে, তাঁরা ভারতের যুব সমাজের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। কিন্তু ভারতের যুবসমাজ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতের পুতুল নয়।” তাঁর কথায়, “দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে বিরোধিতা থাকবে, কিন্তু গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ধ্বংস হতে দেব না। ভারতের তরুণ প্রজন্ম উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত। তাদের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার ফলে ভারতে প্রায় দুই লক্ষ স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিককালে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতে আমরা যে সরকার-বিরোধী আন্দোলন দেখেছি, তা দেশে কোনও দিনই হবে না।”
সব মিলিয়ে পাঁচটি দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়াও তাঁদের দাবি, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, মণিপুরে স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নজর দেওয়া এবং সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। শনিবার খানিক অপ্রত্যাশিতভাবেই ককরোচ পার্টির বিক্ষোভের অনুমতি দেয় দিল্লি পুলিশ। শুধু অনুমতি দেওয়া নয়, কোনওরকমভাবে কোনও অশান্তির পরিবেশ যাতে তৈরি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, অভিজিৎ ভারতে পা রাখলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু গ্রেপ্তারি তো দূর, উলটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়েছে।