১৫ ঘণ্টার পাওয়ার ব্লকে ভোগান্তিতে যাত্রীরা, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টায় রেল
প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
ভিড় কামরা। অন্যের কাঁধে নিশ্বাস পড়ছে অপরের। ঘামে নাজেহাল অবস্থা যাত্রীদের।শিয়ালদহ মেইন লাইনে মেগা পাওয়ার ব্লকের ফলে চরম ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। সকালেই এই চিত্র বেলা বাড়লে পরিষেবার হাল কী হবে তা নিয়ে আশঙ্কায় অনেকে। তবে দুপর ১টার মধ্যে কাজ শেষ করে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ করছেন কর্মীরা।
পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য শিয়ালদহ ডিভিশনে ৬ জুন শনিবার ও ৭ জুন রবিবার বড়সড় ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লক নেওয়া হয়েছে। তার জেরে বাতিল একাধিক লোকাল। যেগুলি চলছে খুব স্বাভাবিকভাবেই সময়ে নয়। দমদম, বিধানগর স্টেশনের মুখে কম করে মিনিট ১৫-২০মিনিট করে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ছে। এমনটাই অভিযোগ যাত্রীদের। তাঁদের দাবি, সোদপুর থেকে শিয়ালদহ আসতে সময় লাগছে ১ ঘণ্টার কাছাকাছি।
কিন্তু ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লক পূর্ব ঘোষিত। সমস্যা হবেই তা জানাই ছিল। পরিষেবা বিঘ্নিত হবে, দুঃখ প্রকাশ করে পাশে থাকার আবেদনও করেছে রেল। তাহলে অভিযোগ কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, “কাজ চলছে, ট্রেন বাতিল জানতাম। তবে যে ট্রেনগুলি চলছে সেগুলি তো সময়ে চলুক। অন্যান্য দিন ২-৫ মিনিট দেরি হয় আমরা মেনে নিই। তা বলে ১৫-২০ মিনিট করে প্রতি স্টেশনে কেন? আমাদেরও কাজ রয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ গুলি সহ্য করা যায় না।” অত্যাধিক ভিড়ে গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার খবরও মিলছে। যাত্রীরাই জল দিয়ে, হাওয়া করে তাদের সুস্থ করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করতে একসঙ্গে অনেক কর্মী কাজ করছেন। কাজ শেষ হলেই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
উল্লেখ্য, শিয়ালদহ ও কাঁকুড়গাছি রোড জংশনের মধ্যে আপ ও ডাউন সাবার্বান লাইনে মোট ১৫ ঘণ্টার ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লক নেওয়া হয়েছে। ব্রিজ নম্বর ৩-এ কাজ চলছে। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে রবিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এই লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এছাড়াও, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রবিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নারকেলডাঙা কারশেডে ট্রেনের যাতায়াত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে।