তরুণীকে নিগ্রহ! অভিযোগ করায় ‘মারধর’, কলেজ স্ট্রিটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরল বাহিনী
প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
রবিবার সাত সকালে কলেজ স্ট্রিটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলল বাহিনী। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ। ২০২৩ সালে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। কাউন্সিলর সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। পকসো মামলা রুজু হয় কাউন্সিলর সহ তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সেই মামলা তুলে নিতে দিনের পর দিন তরুণীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। জানা গিয়েছে, ওই তরুণী কাউন্সিলরের পাশেরই একটি বাড়ির বাসিন্দা।
শনিবার রাতে ফের ওই তরুণীর উপর হামলার অভিযোগ কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকার ফাঁকা রাস্তায় তরুণীকে একা পেয়ে প্রথমে কটূক্তি করা শুরু করে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। প্রতিবাদ করলে ওই তরুণীর উপর চড়াও হন তাঁরা। তরুণীকে চড়, লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাতেই জোড়াসাঁকো থানায় অভিযোগ দায়ের করে তরুণীর পরিবার। কাল রাতেই কলাবাগান বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ভাঙা হয়েছে বলেও অভিযাগ। সকাল হতেই কাউন্সিলরের বাড়ির এলাকা ঘিরে ফেলে বাহিনী। কোনওভাবেই যাতে মহম্মদ জসিমুদ্দিন এলাকা ছাড়তে না পারেন, তার ব্যবস্থা করতে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পুলিশের অভিযান। কাউন্সিলরের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ‘টক টু মেয়র’ প্রোগ্রামেও জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ একজনকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতেই কলকাতার একজন তৃণমূল কাউন্সিলরকে জালে তুলেছে পুলিশ। পাটুলির ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে রাজ্যে সরকারি পালাবদলের পর এ নিয়ে কলকাতার মোট ৬ তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন দেখার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কলেজ স্ট্রিটের কাউন্সিলর কী বলেন, না কি কলকাতার কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারির তালিকায় তিনিও এবার পরের নাম হতে চলেছেন?