• তেলের প্যাকেটে বড় বদল, বাজার থেকে উধাও হবে ৬৫০, ৮১০ গ্রাম-সহ একাধিক সাইজ
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • রান্নার তেলের প্যাকেটে বড় বদল আনল কেন্দ্র। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলের দাম ও পরিমাণ তুলনা করা যাতে ক্রেতাদের কাছে সহজ হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রধান ভোজ্য তেলগুলির জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ় বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রস্তুতকারক, প্যাকার এবং আমদানিকারকদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি জারি করা এক পরামর্শপত্রে (অ্যাডভাইজ়রি) কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর (Department of Consumer Affairs) জানিয়েছে, লিগ্যাল মেট্রোলজি কাঠামোর আওতায় ভোজ্য তেল ও ফ্যাটের নেট পরিমাণ এবং স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ় নির্ধারণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র (SoP)-এ সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের প্যাক সাইজ়ের বদলে আবার নির্দিষ্ট মাপের প্যাকেটেই ভোজ্য তেল বিক্রি করতে হবে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাম অয়েল, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, সর্ষের তেল, বাদাম তেল, তিল তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, কটনসিড অয়েল, কর্ন অয়েল এবং এদের মিশ্রণের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত প্যাক সাইজ়গুলি হল ২০০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ কেজি, ২ কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি, ৫ কেজি, ১৫ কেজি এবং ২০ কেজি। তরল পরিমাপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্যাক সাইজ় হবে ২০০ মিলিলিটার, ৫০০ মিলিলিটার, ১ লিটার, ২ লিটার, ৩ লিটার, ৪ লিটার, ৫ লিটার, ১৫ লিটার এবং ২০ লিটার। তবে ২০০ গ্রাম বা ২০০ মিলিলিটারের কম পরিমাণের প্যাকের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাজার থেকে ৬৫০ গ্রাম, ৭০০ গ্রাম, ৮১০ গ্রাম, ৮৫০ গ্রাম বা ৮৭০ গ্রামের মতো স্ট্যান্ডার্ড নয় এমন প্যাক সাইজ় ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে।

    গত ২০ মে উপভোক্তা বিষয়ক সচিব নিধি খারের নেতৃত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে ভোজ্য তেল শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকেই বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার লক্ষ্যে স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।

    শিল্পমহলের একাংশের মতে, কয়েক বছর আগে প্যাক সাইজ় নির্ধারণের নিয়ম শিথিল করার ফলে সংস্থাগুলি নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন মাপের প্যাক বাজারে আনতে শুরু করে। ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল অয়েল প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IVPA) সভাপতি সুধাকর দেশাইয়ের দাবি, শিল্পক্ষেত্রকে বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে তার ফলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্যাক সাইজ়ের প্রসার ঘটে এবং ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁর কথায়, নতুন সিদ্ধান্ত খুচরো বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও সমতল করবে।

    একই সুর শোনা গিয়েছে ভোক্তা সংগঠনগুলির তরফেও। কনজ়িউমার ভয়েসের প্রধান নির্বাহী অসীম সান্যালের মতে, স্ট্যান্ডার্ড প্যাক সাইজ় চালু হলে ক্রেতাদের পক্ষে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তুলনা করা সহজ হবে। একই সঙ্গে তাঁরা যে পণ্যের জন্য টাকা খরচ করছেন, তার প্রকৃত মূল্যও সহজে বুঝতে পারবেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধরনের প্যাক সাইজ়ের কারণে খুচরো বাজারে দাম তুলনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    ভারতে ভোজ্য তেল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য। দেশীয় চাহিদার বড় অংশ মেটাতে এখনও আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি ও শিল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেশে ভোজ্য তেলের ব্যবহার ছিল ২ কোটি ৪৬ লক্ষ টন। ২০২২-২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ টনে। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ সালে ভোজ্য তেল আমদানি ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

    নীতি আয়োগের ২০২৪ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে মাথাপিছু ভোজ্য তেল ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে বছরে প্রায় ১৯.৭ কেজিতে পৌঁছেছে। বাজার গবেষণা সংস্থা TechSci Research-এর হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে ভারতের ভোজ্য তেলের বাজারের আকার ছিল ৪৩৯ কোটি ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৬৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।
  • Link to this news (এই সময়)