মধ্যপ্রদেশের ভোপালের মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর তদন্তে নয়া মোড়। ঘটনার মূল প্রমাণ তথা ফাঁসের দড়ি নিয়ে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, ১৩ মে উদ্ধার হওয়া ওই দড়িটি বাজেয়াপ্ত করার সময়ে পুলিশ সঠিক নিয়ম মানেনি। আদালতে পেশ করা বেশ কিছু নথি অনুযায়ী, ত্বিষার মৃত্যুতে ব্যবহৃত ফাঁস লাগানোর দড়ি বা ‘লিগেচার’ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্ত বর্তমানে CBI-র হাতে রয়েছে। তার মধ্যেই ত্বিষার শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিনের শুনানি চলছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে। এই বিষয়টি ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
১২ মে রাতে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে ত্বিষা শর্মার মৃত্যু হয়। এর পরের দিন অর্থাৎ ১৩ মে সকালে সাব-ইন্সপেক্টর দিনেশ শর্মা ফাঁসের দড়ি উদ্ধার করেছিলেন। ঘটনার তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার সংক্রান্ত নথিতে পুলিশে বড় খামতি ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের তৈরি করা ‘সিজ়ার মেমো’-তে এমন কোনও ব্যক্তির নামই উল্লেখ নেই, যিনি দড়িটিকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই দড়িটিকে ত্বিষার শাশুড়ি বা তাঁর স্বামী, কেউই শনাক্ত করেননি। এই পরিস্থিতিতে, কী ভাবে ওই দড়িটিকে ঘটনার মূল প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া হলো তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এ ছাড়াও, তথ্যপ্রমাণ সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি নিয়েও উঠেছে একাধিক অভিযোগ। আদালতে দাবি করা হয়েছিল, দড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পরে তা দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তকারী অফিসারের গাড়িতেই রাখা ছিল। তার পরে সেটি ভোপালের AIIMS-এ পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে প্রমাণের সঙ্গে কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ত্বিষা শর্মাকে বাড়ির ছাদে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। রিপোর্টে ত্বিষার গলায় দু’টি দাগের কথা উল্লেখ করে হয়েছিল। এ ছাড়াও, রিপোর্টে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড় ও ক্ষতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই কারণে এই ঘটনার প্রতিটি প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।