তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে শুক্রবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন জোসেফ বিজয়। আর প্রথম বৈঠকেই তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন বা TASMAC নিয়ে কড়া বার্তা দেন। TASMAC-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ‘পার্টি ফান্ড’ প্রথা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, মদ বিক্রি করে যে আয় হবে, পুরোটাই যেন রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়ে। কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কী এই TASMAC? এটি তামিলনাড়ু সরকারের একটি কর্পোরেশন, যা রাজ্যে মদের পাইকারি ও খুচরো বিক্রির উপর কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রাখে। বলা ভালো, তামিলনাড়ুতে মদের বিক্রি নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা। রাজ্যের অর্থনীতিতে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্রের খবর, প্রতি মাসে প্রায় ১০২ কোটি টাকা TASMAC-এর মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এ ভাবে গত পাঁচ বছরে রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরানো হয়েছে। এই ঘটনায় DMK-র ভূমিকা নিয়ে চর্চা দ্রাবিড়ভূমে।
এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে ৪ হাজার ৪৮টি রেজিস্ট্রার্ড আউটলেট রয়েছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, TASMAC-এর খুচরো ও পাইকারির যে নেটওয়ার্কের হাত ধরে এই ধরনের কাজ চলত, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
আবগারি মন্ত্রী কে ভিগনেশ এনডিটিভিকে জানান, মুখ্যমন্ত্রী ক্যাবিনেট বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি বা মানুষের কষ্টের টাকা দিয়ে তার সরকারের রাজস্বের প্রয়োজন নেই। তার স্পষ্ট নির্দেশ, অবিলম্বে সব ধরনের অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে, জনগণের টাকা কোষাগারে ফেরাতে হবে।
তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসেই সুপারস্টার অভিনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় ঘোষণা করেছিলেন, সেখানকার মন্দির, স্কুল এবং বাস স্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত সরকারি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। ৭১৭টি মদের দোকানও পাকাপাকি ভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বার নজরে TASMAC।
তামিলনাড়ুকে মাদক মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি বিজয় দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরে ধাপে ধাপে সে পথেই হাঁটছেন তিনি।