পরিবেশ যদি সুরক্ষিত না থাকে, মানুষও সুস্থ, সুরক্ষিত থাকবে না। তাই পরিবেশকে আরও বেশি করে যত্ন করতে হবে, সুরক্ষিত রাখতে হবে জলবায়ু। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রবিবার ছুটির সকালে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে নিউ টাউনে আয়োজন করা হয় এক সাইকেল র্যালির, ‘সানডে অন সাইকেল’। উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
‘স্বচ্ছ গ্রাম, সুরক্ষিত জলবায়ু’র মন্ত্রকে সামনে রেখে পরিবেশের যত্ন ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। নিউ টাউন ইসকন থেকে শুরু হয়ে যা শেষ হয় ইকো পার্কে এসে। প্রায় ২০০ জন এই সাইকেল র্যালিতে অংশ নেন। ছিলেন ফিট ইন্ডিয়া এবং ইসকনের একাধিক সদস্য। ছিলেন বহু পড়ুয়া।
এ দিন রং-তুলিতে অসাধারণ পথ-আলপনায় সেজে ওঠে এই সাইকেল র্যালির স্টার্টিং পয়েন্ট। বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপস্থিত ছিলেন এই উদ্যোগে শামিল হতে। সকলে হয়ত সাইকেল চালাননি, তবে যে সাইকেল আরোহীরা এই মহতী বার্তা দিলেন, তাঁদের পাশে থেকে সর্বতো ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই আমরা পরিবেশ দিবস পালন করেছি। ৩ তারিখ বিশ্ব সাইকেল দিবস ছিল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ সারা দেশে সাইকেল দিবসের উদযাপন হবে। এর মাধ্যমে সমাজকে আমরা বার্তা দিতে চাই, প্রকৃতিকে স্বচ্ছ রাখতে হবে, নিজেকে স্বচ্ছ রাখতে হবে। প্লাস্টিক বর্জন, দূষণ না ছড়ানো, অকারণে এসি না চালানো, গাড়ি না চালানোর মাধ্যমে তা সম্ভব।’
বহু সাইকেলপ্রেমী যেমন এ দিন র্যালিতে অংশ নেন, উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচটি সরকারি স্কুলের নবম-দশম-একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাও অংশ নেয়। দারুণ খুশি তারাও। অন্যান্য রবিবার ছুটির সকালে একটু বেলা করে ঘুম থেকে উঠলেও এ দিন সকাল সকাল হাজির হয়ে গিয়েছিল।
সাইকেল এনথুসিয়াস্ট আশিস বাজাজও অংশ নিয়েছিলেন এই উদ্যোগে। আশিস বাজাজ বলেন, ‘৩ জুন ছিল ওয়ার্ল্ড বাই সাইকেল ডে, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দু’টো দিনকে সামনে রেখেই সমাজকে মেসেজ দিতে এই উদ্যাগ। এখন যে ভাবে দূষণ বাড়ছে, সাইকেল সে ক্ষেত্রে আমাদের সমাজকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য খুবই ভালো ভূমিকা নিতে পারে। সাইকেল শুধু যাতায়াতের জন্যই নয়, শরীরকে ফিট রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এখন হয়ত রোজ সম্ভব হয় না, তবে একটা সময়ে আমি সপ্তাহে ৫-৬ দিনও সাইক্লিং করেছি।’
ইকো পার্কে ফিনিশিং পয়েন্টে এসে আরও এক অভিনব মুহূর্তের সাক্ষী থাকল এ দিনের শহর। আইফেল টাওয়ারের আদলে তৈরি টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে সকলে গাইলেন বন্দে মাতরম, গাইলেন জাতীয় সঙ্গীতও।