পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা শাড়ির স্তূপ। দেখে মনে হতে পারে, মেঝেতে সাজিয়ে রাখা আছে শাড়িগুলি। যে কোনও শাড়ি ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই দৃশ্য স্বাভাবিক। হাওড়ার আমতায় ‘তন্তুজ’-এর একটি গোডাউনে একই ভাবে লাট লাট শাড়ি জড়ো করা ছিল। সেই শাড়ির নীচেই ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিলেন যুব তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে ধুলো দিতে এই উপায় অবলম্বন। সকলের নজর এড়াতে সফলও হয়েছেন একবার। তবে শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ‘লুকোচুরি’র পরে গ্রেপ্তার হন ওই তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার আমতায় ‘তন্তুজ’-এর কাপড়ের গোডাউনটি স্থানীয় বাসিন্দারা ঘিরে ফেলেন। তাঁদের সন্দেহ ছিল, এই গোডাউনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা লুকিয়ে আছেন। পরে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। আমতা থানার পুলিশ গোডাউনের ভিতরে ব্রহ্মানন্দকে খুঁজতে শুরু করে। যদিও প্রথমে সেখানে তৃণমূল নেতাকে দেখতে পাওয়া যায়নি। একগুচ্ছ শাড়ির স্তুপের নীচে লুকিয়ে ছিলেন সেই নেতা।
সন্দেহ বাড়তে শাড়ির বান্ডিল সরিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তখনই হাতেনাতে ধরা পড়েন ব্রহ্মানন্দ। পুলিশ গ্রেপ্তার করে ওই তৃণমূল নেতাকে। স্থানীয়দের দাবি, উদয়নারায়ণপুরের বসন্তপুরের তৃণমূল যুব নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি, দাদাগিরি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকী ২০১১ সালের পরে ভোট পরবর্তী হিংসায় তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের পরেই নিজের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছিলেন ব্রহ্মানন্দ। সেই আশঙ্কাতে ব্রহ্মানন্দ পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
উদয়নারায়ণপুরের বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ব্রহ্মানন্দ নানা দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় দাদাগিরি, তোলাবাজি করে বেড়াতেন। ওঁর জন্য সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে থাকত।’