মমতার আরাবুল থেকে নওশাদের আরাবুল। ডামাডোলের মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন এক সময়ের তাঁর দলেরই 'তাজা নেতা'। আরাবুল তৃণমূল ছাড়েন। আইএসএফ যোগ দেন। নওশাদ তাঁকে টিকিটও দেন ক্যানিং থেকে। যদিও তিনি জিততে পারেননি। তবে, এবার আরাবুল ফের চর্চায়, শওকত গ্রেপ্তার হতেই।
শওকত মোল্লা আর আরাবুল ইসলাম, ভাঙড়কে কেন্দ্র করে, তাঁদের দু'জনের বাকবিতণ্ডা সামনে এসেছে বারবার। এবার শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হতেই, আরাবুলের প্রতিক্রিয়া জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল আইএসএফ নেতার সঙ্গে। শওকতকে যেমন বন্ধু স্বীকার করলেন না, তেমনই তোপ দাগলেন মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধেও।
শওকত প্রসঙ্গে আরাবুলের সাফ জবাব, 'ও তো দীর্ঘদিনের সিপিএম। তারপর মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলে। ও আমার কোনও দিনের বন্ধু নয়। যে মামলায় ও গ্রেপ্তার হয়েছে, এছড়াও ও অনেক অপরাধ, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ভাঙড়ের সমস্ত বোম বাঁধা-সহ খুন, নানা অপরাধের মাস্টার মাইন্ড ও। জমি দখল থেকে শুরু করে, খালের পাড়, সরকারের খাস ল্যান্ড, সব দইখল করেছে। শেষ সময়ে মমতা ব্যানার্জি মাথায় হাত রাখল। মমতা ব্যানার্জি যার মাথায় হাত রাখেন সে পুড়ে যায়। ওঁর দলও শেষ হল, শওকতও গেল জেলে। এই কুখ্যাত ক্রিমিনাল বাইরে না থেকে, জেলে থাকাই ভাল।'
আরাবুল তৃণমূলের সূচনা দেখেছেন। আবার পতনও দেখলেন। পতন দেখলেন, তবে অন্য দলে বসে। কেমন লাগছে, তাঁর 'প্রাক্তন' দলকে টুকরো টুকরো হতে দেখে? আরাবুল বলছেন, 'ভাল লাগছে, খুব ভাল লাগছে।' তাঁর সংযোজন, 'মমতা ব্যানার্জি একজন বেইমান।' মমতা ব্যানার্জির যাদবপুরে ভোট লড়ার সময়েরত স্মৃতি আরাবুলের কথায়। বলেন, '১৯৮৪ থেকে আমি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে ছিলাম। এই ভদ্রমহিলা যখন যাদবপুরে দাঁড়ান, জেলার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। আমি সব করেছি। কিন্তু তারপর আর থাকিনি। ওঁর অনেক অহংকার, আর সেই অহংকারের কারণেই বাংলার মানুষ পছন্দ করল না। তাই এই পরিণতি হওয়ারই ছিল।'