আজকাল ওয়েবডেস্কঃ অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন। জোড়াসাঁকো সংলগ্ন কলেজস্ট্রীটের বাড়ি থেকেই রবিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তোলাবাজি, ধর্ষণের মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল সন্ধ্যায় জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জসিমুদ্দিনের দলবল কলেজ স্ট্রিট এলাকায় ওই মহিলাকে মারধর করে বলেই অভিযোগ। এমনকি পাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরাও ভাঙচুড় করা হয়েছে বলে খবর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন বছর আগে এলাকারই এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় জসিমুদ্দিন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছিল। সেই নাবালিকা এখন কলেজছাত্রী। শনিবার তাঁকেই ফের হেনস্থা করা হয়। পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ দেওয়া হয়। সঙ্গে হুমকিও দেয় জসিমউদ্দিনের দলবল। এর পরেই থানায় ফের অভিযোগ জানান তরুণীর পরিবার। বেআইনি কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, সম্মতি ছাড়া নির্যাতিতার নাম বা পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানি-র মতো একাধিক অভিযোগে এফআইআর রুজু করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
রবিবার ভোরবেলাতেই সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তৃণমূল নেতার কলেজ স্ট্রীটের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে। জসিমউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বাড়িতে ঢুকতে চাইলেও মূল ফটক খোলা হয়নি। শেষমেশ, চাবিওয়ালাকে ডেকে চাবি তৈরি করে বাড়ির গেট বাইরে থেকে খুলে জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে উঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে সেই গাড়ি উদ্দেশ্য করেই ডিম ছুঁড়তে থাকে। গোটা ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।