গ্রেপ্তার একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি, অবৈধ পথে মুর্শিদাবাদে এসে বসবাসের অভিযোগ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ জুন ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি থানার ধুমারপাহাড় এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ঢুকে পড়ে একটি পরিবার। আর এখানে এসে বসবাস করতে শুরু করে তারা বলে অভিযোগ। আর তাই একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন নাবালক। পুলিশ সূত্রে খবর, জাল নথি ব্যবহার করে তারা এদেশে বসবাস করছিল। গ্রেপ্তার করে তাদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের প্রধান উজির আলি ১৩ বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। আর সাগরদিঘির ধুমারপাহাড় এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ধৃতদের নাম উজির আলি (৪৩), তাঁর স্ত্রী জাইনুর খাতুন (৩৬) এবং তাঁদের তিন ছেলে শিহাদ শেখ (১৫), ইনজামুল হক (১০) এবং আব্দুল সামাদ শেখ (৪)। তাঁদের আদি বাড়ি বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। জীবিকার তাগিদে উজির আলি দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। ওই এলাকায় প্রায় ১৫ শতক জমি কিনে বাড়িও তৈরি করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে এখানেই শেষ নয়, বহুদিন ধরে এখানে বসবাসের পাশাপাশি উজির আলি ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড-সহ নানা ভারতীয় পরিচয়পত্রও বানিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। তদন্তে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধৃতদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এখন ওপার থেকে এপারে আসা এবং বসবাস করার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনও অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাকে এখানে থাকতে দেওয়া হবে না। তাই প্রত্যেক জেলায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে বলেছেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফকে জমি দিয়েছে রাজ্য সরকার। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কড়া হাতে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেরায় উজির আলি পুলিশকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আসার সময় তাঁর সঙ্গে এক ছেলে ছিল। পরে ভারতে বসবাস করার সময় আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। এখন বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণি এবং মেজো ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। রবিবার অভিযানের পর এই পাঁচজনকেই আটক করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। তাঁদের সুতি থানা এলাকার আহিরণের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। কেমন করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিল এবং সরকারি পরিচয়পত্র বানাল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।