তৃণমূল নেতাকে জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরালেন এলাকার মানুষ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ জুন ২০২৬
হাওড়া জেলার শ্যামপুরের আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মৌসুমী মাইতিকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কাটমানি নেওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিক্ষোভ ঘিরে রবিবার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভাইরাল ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম এবং কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন এলাকার কিছু বাসিন্দা। অভিযোগের সুর আরও চড়ে ওঠে সম্প্রতি। সেই ক্ষোভ থেকেই এদিন বহু মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বলে জানা গিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধান মৌসুমী মাইতিকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একটি ভিডিওতে তাঁর মাথায় ডিম ফাটানো হয়েছে বলেও দেখা যাচ্ছে। ঘটনার জেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক তৃণমূল নেতাকেও বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, সরকারি আবাসন, রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালোভাবে তুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে এলাকার মানুষের।