• ‘অর্থনীতির চালিকা শক্তি ভারত’, লিপুলেখ বিতর্কের মাঝেই জয়শংকর সাক্ষাতে দিল্লির প্রশংসায় নেপালের বিদেশমন্ত্রী
    প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
  • বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে সম্প্রতি বিবাদে জড়িয়েছে ভারত-নেপাল। এই আবহে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পা রেখেছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। শনিবার তিনি বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জংশংকরের সঙ্গে। সেখানেই ভারতকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি। বললেন, “অর্থনীতির চালিকা শক্তি ভারত।”

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের মন্তব্যের মাঝেই তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন শিশির। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি, সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তাঁর এই সফর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশির বলেন, “যখন আমরা সীমান্তের ওপারে তাকাই, তখন ভারতকে অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসাবে দেখতে পাই। এমন এক উদীয়মান ভারত, যে নিজেকে গতিশীল, দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। নতুন এই ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই।” তিনি স্পষ্ট করেছেন, নেপালের নতুন নেতৃত্ব ভারতকে পুরনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। তিনি আরও বলেন, “আমরা নেপাল-ভারত সম্পর্কের গোটা পরিভাষাকে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত থেকে সরিয়ে উন্নয়ন ও কূটনীতির ওপর দৃঢ়ভাবে স্থাপন করতে চাই। আমরা উন্মুক্ত মন, স্বচ্ছ দৃষ্টি এবং স্বচ্ছ লক্ষ্য নিয়ে ভারতের দিকে তাকাই।”

    জয়শংকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত সংযোগ, জ্বালানি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি দু’দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও মজবুত করা যায়, সেই প্রসঙ্গে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। ভারত-নেপালের উন্মুক্ত সীমান্ত যাতে প্রবৃদ্ধি ও সংযোগের সহায়ক হিসাবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    প্রসঙ্গত, বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি দাবি করেন, ভারত শুধু নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করেছে। তাঁর এহেন মন্তব্যের পরই জোর বিতর্ক তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডুকে কড়া বার্তা দেয় নয়াদিল্লি। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
  • Link to this news (প্রতিদিন)