ভোটের ভরাডুবির পর সাংগঠনিক দিক থেকেও খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার দলের সব কমিটি ভেঙে দেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে দলের তরফে। সেই সেই কমিটিতে জায়গা পাননি উত্তরবঙ্গে নেতারা। এমনকী কোনও শাখা সংগঠনেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি উত্তরের কোনও নেতাকে। তবে শুধুমাত্র তৃণমূল কোর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন গৌতম দেব।
গোটা রাজ্যের মতোই উত্তরবঙ্গেও গেরুয়াশিবিরের দাপটে ধরাশায়ী ঘাসফুল শিবির। সমস্ত আসনের এক চতুর্থাংশ আসন ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূলের। কিন্তু এত বিশ্রী ফলের পরেও অন্য জেলার নেতারা যেখানে কোর কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন, সেখানে কেন উত্তরের নেতাদেরই খারাপ ফলের শাস্তি দেওয়া হল, তা নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন।
দলের নতুন কমিটির ঘোষণার পরেই বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোচবিহারের প্রাক্তন সংসদ পার্থপ্রতিম রায়। সমাজ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা থেকে একজনও যোগ্য ব্যক্তি নেই। রাজবংশী, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু। এখনও উত্তরবঙ্গের প্রতি এত অবহেলা। আর কত?’ উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সবচেয়ে ভালো ফল হয়েছে উত্তর দিনাজপুরে। এই জেলায় ন’টি আসনের মধ্যে পাঁচটি পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। এর পরেও জেলা থেকে দলের কেউ রাজ্য কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান বলেন, ‘গোটা রাজ্যে যেখানে তৃণমূল খারাপ ফল করেছে, সেখানে উত্তর দিনাজপুর ভোটের ফলাফলে দলের মান রেখেছে। দিদির উচিত ছিল এই জেলা থেকে কাউকে রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়ার।’ রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনা নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেছে তৎকালীন বিরোধী শিবির বিজেপি। শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, জনপ্রতিনিধিদের প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও যে উত্তরে তৃণমূলের ‘বঞ্চনা’ নীতি রয়েছে। কোর কমিটি গঠনের পর তাও প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।