• ইন্ডিয়া জোটই ভরসা! ভাঙন চিন্তা মাথায় নিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি রওনা মমতার
    প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
  • পরিষদীয় দল দুই ভাগ! ভাঙতে পারে সংসদীয় দলও। কলকাতা পুরসভাও কার্যত হাতছাড়া! বাতিল করতে হয়েছে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক। ভাঙন চিন্তা নিয়েই সোমবারে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আগামিকাল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকি দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ছাব্বিশের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে তৃণমূলের। রাজ্যে দলের নেতারা জনরোষের মুখে পড়ছেন। গ্রেপ্তার হচ্ছেন। ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন একাংশ। এই আবহে তৃণমূলকে ফের ‘গড়তে’ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে তৎপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ফের তৃণমূলের উত্থান ও জাতীয় রাজনীতি প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য ঘাসফুল শিবিরের সামনে একটাই ‘বিকল্প’ বিজেপিকে হারানো।

    খাতায় কলমে সংসদে তৃণমূল এখনও দ্বিতীয় বৃহতম বিরোধী দল। আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেই ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তারা। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রাক্তন শাসকদলের অনুকূলে নেই। ফলে একা সেই প্রভাব বিস্তার করার সম্ভাবনা নেই। কংগ্রেস তথা বিরোধী দলের হাত তৃণমূলকে ধরতেই হবে। এ কথা বিলক্ষণ জানেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ মমতাও। তাই আগামিকালের বৈঠকে গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসে দেওয়া ‘একের বিরুদ্ধে এক তত্ত্ব’কেই নতুন করে উত্থাপন করতে চলেছে তৃণমূল। আগামিকালের বৈঠকই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল বা বিরোধী জোটের ভূমিকা কী হবে? সেই রূপরেখা তৈরি করে দেবে বলেই মত ওয়াকিবহল মহলের।

    তবে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। মূলে সিপিএম। সিপিএমের অভিযোগ, কেরলের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য নেতারা বারবার দাবি করেছিলেন যে, ইউডিএফের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন সমঝোতা’ রয়েছে। বামেদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যেই যখন ইন্ডিয়া জোট গঠিত হয়েছিল, তখন শরিক দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জোটের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। আঁতাঁতের অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে বলেছেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বৈঠকের আগে এই চিঠি প্রকাশ্যে আসা বিরোধী ঐক্যের বার্তাকে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। এবং সংসদের ভিতরে-বাইরে বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ কৌশল তৈরির উপর জোর দিচ্ছেন। তবে সিপিএম স্পষ্ট করেছে, তারা ইন্ডিয়া জোটে থাকছে এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)