লুংচক থেকে শিলিগুড়ির পথে তলিয়েছিল তিস্তায়, ৪৮ ঘণ্টা পর শিশু-সহ ৪ দেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ সিকিম
News18 বাংলা | ০৭ জুন ২০২৬
দু-দিন ধরে চলা উৎকণ্ঠার অবসান ঘটলেও শেষটা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিস্তা নদীতে নিখোঁজ হওয়া সিকিমের চার বাসিন্দার সন্ধান মিলল নদীর গর্ভেই। শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী দল প্রথমে নদীর তলদেশে ডুবে থাকা গাড়ির কিছু অংশ শনাক্ত করেছিল। রবিবার সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু করে এনডিআরএফ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা। এরপর উদ্ধার হয় গাড়ির বাকি অংশ এবং তার ভিতর থেকে পাঁচ বছরের এক শিশু-সহ চারজনের মৃতদেহ।
জানা গিয়েছে, গত ৫ জুন গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন লিংডক-কাবি লুংচকের বাসিন্দা স্মারিকা নিওপানে (২৮), শৈব্যা নিওপানে (২৭), টিকা দাহাল (২৭) এবং পাঁচ বছরের শিশু দিত্যা ছেত্রী। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার কারণে তারা শিলিগুড়িতে আসছিলেন। পথে প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে তাদের গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
শনিবার সন্ধ্যায় বাগপুল সংলগ্ন তিস্তা নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে উদ্ধারকারী দল গাড়িটির অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। নদীর গভীরে ডুবে থাকা গাড়ির কিছু অংশও শনাক্ত করা হয়। তবে অন্ধকার নেমে আসা এবং নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেদিন উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান স্থগিত রেখে রবিবার সকালে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।রবিবার দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদীর গভীর থেকে গাড়ির বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকারী দল গাড়ির ভিতরেই চারজনের দেহ খুঁজে পায়। এনডিআরএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি নদীর অত্যন্ত গভীর অংশে আটকে থাকায় তা একবারে টেনে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই ধাপে ধাপে গাড়ির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুরো অপারেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই ঘটনায় সিকিম ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির কাছে রবিবারের উদ্ধার অভিযান নিয়ে এল হৃদয়বিদারক খবর। তিস্তার বুকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও পাহাড়ি এলাকায় বর্ষাকালীন যাত্রার ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে এনে দিল।