দশ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি গিয়ে অধ্যাপিকাকে খুন! দাস দম্পতির নৃশংসতায় শিউরে উঠল পুলিশও
News18 বাংলা | ০৭ জুন ২০২৬
নিজেদের দশ বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েই দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুন করেছিল বর্ধমানের দম্পতি! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ৷
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন দেবস্মিতা পাল নামে বছর ৪২-এর ওই বাঙালি অধ্যাপিকা৷ খুনের অভিযোগে আজই বর্ধমান শহরের কার্জন গেট এলাকা থেকে রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বর্ধমান থানার পুলিশের একটি যৌথ দল৷ জানা গিয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় একটি বাড়ি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা৷ সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকত অভিযুক্ত দাস দম্পতি৷ পুলিশের অনুমান ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই ওই অধ্যাপিকাকে খুনের ছক কষে বর্ধমানের দম্পতি৷
গত বৃহস্পতিবার দিল্লি শহরে অধ্যাপিকা খুনের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়৷ তদন্তে নেমে ওই আবাসনে ঢোকা বেরনোর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রায় দুশো জন সন্দেহভাজনকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করেছিল দিল্লি পুলিশ৷ ওই সন্দেহভাজনদের মধ্যেই মুখে মাস্ক পরা তিন জনের গতিবিধিকে রহস্যময় বলে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা৷ কারণ আবাসনে ঢোকার সময় এক পোশাক এবং বেরনোর সময় অন্য পোশাক পরেছিলেন ওই তিনজন৷
যেহেতু দেবস্মিতা পালের ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙার কোনও প্রমাণ মেলেনি, তাই আততায়ী বা আততায়ীরা মৃত অধ্যাপিকার পরিচিত ছিল বলেই নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা৷ এই সূত্রগুলি মিলিয়েই দেবস্মিতাদের বাড়ির ভাড়াটে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দাসকে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিশ৷ তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সিসিটিভি ফুটেজে ওই দম্পতির সঙ্গে তৃতীয় যাকে দেখা গিয়েছিল, সে আসলে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রীর বছর দশেকের ছেলে৷
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, নিজেদের সন্তানকে নিয়ে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে ঢুকলে হয়তো পুলিশের সন্দেহ তাঁদের উপরে পড়বে না৷ কারণ নিজেদের সন্তানকে নিয়ে কেউ কাউকে খুন করতে আসবে, তা পুলিশও ভাবতে পারবে না বলেই আশা করেছিল দাস দম্পতি৷ যদিও শেষরক্ষা হল না৷ সূত্রের খবর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে দেবস্মিতাকে খুন করে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী৷ মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাতের শিরাও কেটে দেয় তারা৷
গত বৃহস্পতিবার দেবস্মিতাকে খুন করে ফিরে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া নিজেদের ছেলেকে নিয়ে বর্ধমানের ওই ভাড়া বাড়িতেই উঠেছিল রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী৷ পুলিশ জানতে পেরেছে, বার বার ওই দম্পতিকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দেবস্মিতা৷ কারণ বাড়িটি বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর৷ পুলিশের ধারণা, ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই দেবস্মিতাকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে দাস দম্পতি৷