প্রায় ১,৪০০ কিমি পাড়ি দিয়ে দিল্লি যাত্রা। ঠান্ডা মাথায় খুন করে এসে বাড়িতে ঘাপটি মেরে ছিল দম্পতি। বাড়ি উপরে কেউ নজর রাখছে কি না তার জন্য লাগানো হয় সিসিটিভি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের হত্যাকাণ্ডে বর্ধমান থেকে এই দম্পতিকে বৃহস্পতিবার তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে দেবস্মিতাকে হত্যা কেন? পিছনে কোন রহস্য? স্থানীয় সূত্রে খবর, দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। বাড়িটি বর্ধমান পুরসভার বাদামতলা এলাকার অরবিন্দ স্টেডিয়ামের উল্টোদিকের গলিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই বাড়িটির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শুরু অশান্তি। সম্পত্তি দখল করার কারণে দেবস্মিতাকে খুন করা হয়েছে, না অন্য কেউ খুন করিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গত বুধবার দিল্লি পৌঁছয় ওই দম্পতি। দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভে ফ্ল্যাটে দুপুর প্রায় ৩টা ২০ মিনিটে একটি প্রাইভেট ক্যাবে করে প্রবেশ করেন ওই দম্পতি। দু’জনের মুখে ছিল মাস্ক। লিফ্ট না ব্যবহার করে লিফট করে সোজা অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে যান। পূর্ব পরিচিত থাকার কারণে সহজেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার সুযোগ পান। প্রায় আধঘণ্টা পরে বেরিয়ে আসেন তারা। সেই সময়ের মধ্যেই নিজেদের পোশাক পাল্টে নেন। পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতায় ফিরে দিব্যি ভাড়া বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন ওই দম্পতি। এ দিন পুলিশ বাড়ির বাইরে থেকে একাধিকবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। এর পরে বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। দু’জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য দিল্লি পুলিশ এই দম্পতির খোঁজ পায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রিপোর্টিং: গোপাল সোনকার