রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে খোলনলচে বদল শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনও অনেক সরকারি আধিকারিকের মধ্যে ‘নেগেটিভ মাইন্ডসেট’ লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়ে তাঁদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিউ টাউনে একটি দলীয় কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, যে সব আধিকারিকের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে, তাঁদের সঠিক রাস্তায় আসা প্রয়োজন। তার জন্য দলের জনপ্রতিনিধিদের তো বটেই, সংগঠনের নেতানেত্রীর চোখ-কান খোলা রাখার উপদেশ দিলেন শুভেন্দু।
দলীয় কর্মসূচিতে সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, বিজেপি ভোটের সময়ে সংকল্পপত্রে (ইস্তেহারে) যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা সবই ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে। তার জন্য সংগঠনের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং সরকারের ভাষ্য একেবারে নীচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে থাকে, সেই সরকারি আধিকারিককেও একই ভাবেই সক্রিয় হতে হবে। কিন্তু তার জন্য সকলের মনোভাব একই হওয়া প্রয়োজন।
মুুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার সরকারের যাঁরা চালিকাশক্তি, অর্থাৎ সরকারি আধিকারিকেরা, তাঁদের সকলকে খারাপ বলব না। কিন্তু তাঁদের মধ্যে দু’ধরনের মাইন্ডসেট কাজ করে, যা সম্পূর্ণ বদলানো প্রয়োজন। সেটা আরও সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে করতে হবে। সরকারি মেশিনারিকে আরও উপযুক্ত করে তুলতে হবে। যাঁরা এখনও নেগেটিভ মাইন্ডসেটে রয়েছেন, তাঁদের সঠিক রাস্তায় আনতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের সহযোগিতা।’
সকলকে একসঙ্গে নিয়েই এগোনোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জোর দিয়েছেন ‘আমি নয়, আমরা’র ভাষ্যে। শুভেন্দু বলেছেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি। প্রত্যেক বিষয়ে উনি নজর দিয়েছেন। অনেক গুরুদায়িত্ব রয়েছে। তা পালন করার চেষ্টা করছি। বাংলা অন্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা। এখানকার মানুষ ভীষণ রাজনীতি সচেতন। ১২ মাস এখানে রাজনীতি হয়। আমাদের কর্মীদের মধ্যেও রাজনীতি সচেতন হতে হবে। এর জন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ভীষণ প্রয়োজন। সরকারের উদ্যোগ, প্রকল্পের সুবিধা এলাকায় পৌঁছল কি না, রাষ্ট্রবাদের উপর কী কাজ হচ্ছে, সব নজরে রাখবেন। সরকারকে, মুখ্যমন্ত্রীকে খবর দেবেন। না হলে আমাদের এই জয়ের স্বার্থকতা থাকবে না।’
দল এবং সরকারের মধ্যে কী ভাবে এই সমন্বয় রাখা সম্ভব হবে, তা-ও বাতলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী-জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, দলের রাজ্যস্তরের কোর কমিটিতে মাসে দু’বার অংশগ্রহণ করা জরুরি। বিধাননগরের কার্যালয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত দেখা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
আগের অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখন যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্নীতি। যা অবস্থা, তা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেলখানা বানাতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ২৭ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা ধরেছি। তিন লাখ পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছে। মুর্শিদাবাদেই সাড়ে চার লক্ষ। পুরুষেরাও বিধবা ভাতা পেয়েছে।’ সরকারি এবং প্রশাসন চালানোর কাজে কেন্দ্রের বিপুল সহযোগিতা মিলছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘মোদিজী বলে দিয়েছেন, বাংলাকে সাহায্য করতে হবে। তা মেনে সব মন্ত্রীরা ভীষণ সহযোগিতা করছেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইতে হচ্ছে না। বাংলার ১ কোটি ৪৬ লাখ পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পাবেন। কেন্দ্রের মতো রাজ্যেও আয়ুষ দপ্তর খুলতে চলেছি আমরা।’ আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট। সেখানে নতুন কিছু দেখা যাবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।