গ্রামের সভায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ‘নব্য বিজেপি’র লোকেরা ষড়যন্ত্র করে এ কাজ করেছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে অভিযুক্তরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে দাবি।
যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, ‘আমাদের দল এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। বিজেপির কেউ জড়িত নন। তৃণমূলের কিছু লোক ৪ তারিখের পরে নিজের বিজেপিকরণ ঘটিয়ে এই সব কাজ করে চলেছে।’
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত তৃণমূল নেতার নাম মিহির ঘোষ ওরফে বোধন। তিনি পুরাতনহাট এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলকোটের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, গত ৩১ মে সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েক জন মিহিরকে ডেকে নিয়ে যান একটি সভায় যোগদানের কথা বলে। মিহিরও যান সেখানে। অভিযোগ, পরে সভা শেষে লাইট নিভিয়ে তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়। পরিবারের দাবি, খুনের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। সেই কারণে সভাস্থলে আগে থেকে ইট, লাঠি, অস্ত্র মজুত করে রেখেছিলেন অভিযুক্তেরা। রবিবার মিহিরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবার জানিয়েছে, বেধড়ক মারধর করে মিহিরকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে পরিবারের লোকেরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তাঁকে মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে এবং পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় মিহিরকে নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতার এসএসকেএমে। কিন্তু বেড না মেলায় তাঁকে আবার বর্ধমানে এনে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। এ দিন নার্সিংহোমেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মিহিরের স্ত্রী তাপসী ঘোষ বলেন, ‘আমার স্বামীকে মারধর করছে জানতে পেরে ছুটে গিয়েছিলাম। ওরা আমাকেও মেরেছিল। আমরা স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিল।’ তাপসীর দাবি, ‘নতুন বিজেপির লোকেরা এ কাজ করেছে। ওদের সকলকে চিনি। পুলিশেও জানিয়েছি।’ কিন্তু কারা ‘নব্য বিজেপি’, স্পষ্ট করেছেন মিহিরের ছেলে প্রবীর ঘোষ। বলেছেন, ‘বাবা যারা মেরেছে, ভোটেরও আগেও তারা তৃণমূল করত। ভোটের পরে হঠাৎ বিজেপি হয়ে গিয়েছে। তার পরেই বাবার উপর চড়াও হলো। মেরেও ফেলল। অভিযুক্তরা সকলেই বিজেপি করে। একেবারে যড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে বাবাকে।’
ভোটের পরে রাজ্যে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির ঘটনায় ‘চার ঘণ্টার বিজেপি’র হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের দিন দুপুর ১২টার পরে তৃণমূলের কিছু নেতা গেরুয়া আবির মেখে নিজেদের বিজেপির লোক বলে দাবি করে অশান্তি করেছেন। তাঁদের দলে তো কোনও ভাবে নেওয়া হবেই না, উল্টে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন শমীক। সে কথা মনে করিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে জেলা বিজেপির তরফে। নিহতের পরিবারও দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেছে।