আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২০ জুন রাজ্যে পালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। রবিবার সরকারিভাবে ঘোষণা করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল থাকাকালীন ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেছিল বিজেপি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিরোধী থাকাকালীন ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হয়েছে। আগের মুখ্যমন্ত্রীর তাই খুব গায়ে লেগেছিল। আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হবে। পয়লা বৈশাখের দিন বাতিল করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ওইদিনই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বরে কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে তারকেশ্বরকে।
মোদির সফরের দিনেই মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে। দিন কয়েক আগে তারকেশ্বরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারকেশ্বর মন্দির চত্বরকে নবরূপে সাজানো হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারকেশ্বরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। হুগলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষকে আহ্বান জানাব।’ অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের পরের দিন যোগ দিবসও পালন হবে বাংলায়।
আর নির্বাচনে জিতে বাংলা দখলের পর এবারের যোগ দিবসও বাংলা থেকেই পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে যোগ দিবস পালন হবে এই রাজ্যে। আগে হত না। ১৯ জুন হাফ ম্যারাথন হবে যোগ দিবস পালনের প্রস্তুতি হিসেবে। ২১ জুন সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’
এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, এবার থেকে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। আগে এই নিয়ে রাজনীতির পারদ বারংবার চড়েছে রাজ্য রাজনীতির ক্ষেত্রে।
বিজেপি আগাগোড়া দাবি করে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালনের একমাত্র দিন হতে পারে ২০ জুন, কিন্তু তৃণমূল সেই কথা অস্বীকার করে, ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করত।
কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার একমাসের মাথায় সেই দিনটি পাল্টে দিল নতুন সরকার। এর পিছনে কাজ করছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
বেশিরভাগ হিন্দু বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ জন্মের জন্য আলাদা করে দাবি রেখেছিলেন। সেই মতোই বিজেপি দাবি করেছিল, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন বিধানসভার বিধায়করা।
আর সেই কারণেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে এই দিনটিকে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও, সেই দাবির বিরোধিতা করে তৃণমূল। কারণ, উল্টে তাঁরা বাংলা ভাগের দিন দিন হিসাবে এটিকে নেতিবাচক ইতিহাস হিসাবে তুলে ধরতে চায়। তবে সরকার পাল্টেছে, ফলে পাল্টে গেল পশ্চিমবঙ্গ দিবসও।