আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা সালিশি সভায় মারধরের শিকার হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মিহির ঘোষ। ঘটনার আটদিন পর রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকোট থানার পুরাতনহাট গ্রামে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে চলছে তল্লাশিও।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মিহির ঘোষ মঙ্গলকোট অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। পেশায় কৃষক মিহিরবাবুর বাড়ি পুরাতনহাট গ্রামে। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূ। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
পুত্র প্রবীর ঘোষ জানান, গত ৩০ মে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা মিহিরবাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। তাঁদের দাবি ছিল, গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। অভিযোগ, পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় বসা ওই সালিশি সভায় হঠাৎই শুরু হয় বচসা। বচসা চলাকালীন মিহিরবাবুর উপর চড়াও হন কয়েকজন। এর পর শাবল দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
তিনি বলেন, "সাগর ঘোষ,মানা পাল,রামু ঘোষ সহ অন্যরা বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। ওরা মদ খেয়ে ছিল। পুজোর আর্থিক হিসাবে গন্ডগোলের অছিলায় বাবাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।"
জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মিহিরবাবুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাতেও রয়েছে চাপা উত্তেজনা। পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মারধরের নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন দেহটি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করানো হয়। যদিও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নিহতের বাড়িতে কেউ দেখা করতে যাননি।
গ্রামের তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব পাল বলেন, "আমাদের দলেরই অন্য দুই সদস্যকেও একইভাবে মারধর করা হয়। কোনওরকমে রক্ষা পেয়ে যাই আমরা।" তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়ার জন্য বিজেপির উন্মত্ত জনতা মিহিরবাবুকে লাঠি, শাবল,ইঁট দিয়ে পিটিয়ে মেরেছে।
অন্য দিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "এখনও বিস্তারিত জানিনা পুরো বিষয়টা। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তদন্ত চলুক।" তাঁর কথায়, "যে কোনও মৃত্যুই দু:খজনক। আমাদের রাজ্য সভাপতি বা মুখ্যমন্ত্রী সালিশিসভা বা বিরোধী দলের কর্মীদের মারধর করতে নিষেধ করেছেন। তাই দেখতে হবে এটা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিনা। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস বা সিপিএমের লোকেরা এই ধরনের কাজ করে থাকে।"