ভাড়া দেওয়ার টোপ দিয়ে দেবস্মিতার দিল্লির ফ্ল্যাটে যায় দাস দম্পতি, কীভাবে খুন? শিউরে ওঠা তথ্য
News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনের কাণ্ডে তোলপাড় দেশজুড়ে৷ জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি নিজেদের পঞ্চম শ্রেণীর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিলেন৷ স্টেশন থেকেই নিহত অধ্যাপিকাকে ফোন করেন তাঁরা৷ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার শিউরে ওঠা বিবরণ৷
জানা গিয়েছে, স্টেশন থেকে অধ্যাপিকাকে ফোন করে দম্পতি জানান, ‘’বাড়ি ভাড়া হাতে হাতে দেব’৷ তাদের আবাসনে আসতে বলেন দেবস্মিতা৷ রামপ্রসাদের পকেটে দাড়ি কামানোর ক্ষুর ছিল৷ তাদের আপ্যায়নে রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেবস্মিতা৷
সূত্রের খবর, দেবস্মিতার অলক্ষ্যে তাঁরই ঘরে থাকা ইলেকট্রিক ইস্ত্রি দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়৷ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সংজ্ঞা হারান দেবস্মিতা৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ক্ষুর দিয়ে হাত সহ দেহের বিভিন্ন অংশ কাটা হয়৷ এরপর পোশাক বদল করে বেরিয়ে পড়ে তারা৷ ট্রেন ধরে ফিরে আসেন বর্ধমানের বাড়িতে৷
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন দেবস্মিতা পাল নামে বছর ৪২-এর ওই বাঙালি অধ্যাপিকা৷ খুনের অভিযোগে আজই বর্ধমান শহরের কার্জন গেট এলাকা থেকে রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বর্ধমান থানার পুলিশের একটি যৌথ দল৷ জানা গিয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় একটি বাড়ি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা৷ সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকত অভিযুক্ত দাস দম্পতি৷ পুলিশের অনুমান ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই ওই অধ্যাপিকাকে খুনের ছক কষে বর্ধমানের দম্পতি৷
গত বৃহস্পতিবার দিল্লি শহরে অধ্যাপিকা খুনের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়৷ তদন্তে নেমে ওই আবাসনে ঢোকা বেরনোর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রায় দুশো জন সন্দেহভাজনকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করেছিল দিল্লি পুলিশ৷ ওই সন্দেহভাজনদের মধ্যেই মুখে মাস্ক পরা তিন জনের গতিবিধিকে রহস্যময় বলে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা৷ কারণ আবাসনে ঢোকার সময় এক পোশাক এবং বেরনোর সময় অন্য পোশাক পরেছিলেন ওই তিনজন৷
যেহেতু দেবস্মিতা পালের ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙার কোনও প্রমাণ মেলেনি, তাই আততায়ী বা আততায়ীরা মৃত অধ্যাপিকার পরিচিত ছিল বলেই নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা৷ এই সূত্রগুলি মিলিয়েই দেবস্মিতাদের বাড়ির ভাড়াটে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দাসকে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিশ৷ তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সিসিটিভি ফুটেজে ওই দম্পতির সঙ্গে তৃতীয় যাকে দেখা গিয়েছিল, সে আসলে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রীর বছর দশেকের ছেলে৷