• দেবস্মিতার পর কি তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল দাস দম্পতি? প্রশ্ন মৃত অধ্যাপিকার মায়ের
    News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
  • উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বর্ধমান শহরের বুকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি সহ বাড়ির জন্যই কি খুন হতে হল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে? সম্পত্তির জন্য মেয়ে খুন হয়েছেন, এমনটা অবশ্য মানতে নারাজ দেবস্মিতার বাবা-মা৷

    দেবস্মিতার মা অঞ্জলিদেবীর দাবি, দেবস্মিতারা তিন ভাইবোন৷ ফলে তিনি এবং তাঁর স্বামী ছাড়াও তাঁর বাকি দুই সন্তানও এই বাড়ির দাবিদার৷ ফলে দেবস্মিতাকে সরিয়ে দিলেই এই বাড়ি হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হত না অভিযুক্ত ভাড়াটে রামপ্রসাদ দাস এবং তাঁর স্ত্রী বনশ্রীর পক্ষে৷

    এই সূত্রেই নিহত অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের মায়ের মনে প্রশ্ন, তবে কি অভিযুক্ত ভাড়াটে দম্পতি দেবস্মিতার পর একে একে তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল? সূত্রের খবর, ধৃত দম্পতিকে জেরা করে এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবে দিল্লি পুলিশ৷

    গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন দেবস্মিতা পাল নামে বছর ৪২-এর ওই বাঙালি অধ্যাপিকা৷ খুনের অভিযোগে আজই বর্ধমান শহরের কার্জনগেট এলাকা থেকে রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বর্ধমান থানার পুলিশের একটি যৌথ দল৷ জানা গিয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় একটি বাড়ি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা৷ সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকত অভিযুক্ত দাস দম্পতি৷ পুলিশের অনুমান ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই ওই অধ্যাপিকাকে খুনের ছক কষে বর্ধমানের দম্পতি৷

    নিহত অধ্যাপিকার পরিবার সূত্রে দাবি, বর্ধমানের এই বাড়িটি দেবস্মিতার মামাবাড়ি ছিল৷ জন্মসূত্রে দেবস্মিতা নয়ডারই বাসিন্দা ছিলেন, পড়াশোনাও সেখানে৷ পরবর্তী সময়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন দেবস্মিতা৷ দাদুর মৃত্যুর পর থেকেই বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রে কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলার এই বাড়িতে যাতায়াত শুরু হয় দেবস্মিতার৷ বছরে একবার মেয়ে দেবস্মিতা অথবা নিজের ছেলের সঙ্গে বর্ধমানের এই বাড়িতে আসতেন অঞ্জলিদেবী৷ এ মাসেই দেবস্মিতার সঙ্গে বর্ধমানে আসার কথা ছিল তাঁর৷ বছর তিনেক আগে বর্ধমানের এই বাড়ি ভাড়া নেন এলাকারই বাসিন্দা রামপ্রসাদ দাস৷

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত বেশ কয়েক মাস ধরে রামপ্রসাদদের ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দেবস্মিতা৷ সম্ভবত বর্ধমানের বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর৷ কিন্তু নানা অছিলায় বাড়ি ছাড়ছিল না রামপ্রসাদ৷ দিল্লিতে গিয়ে বাড়ি ভাড়ার দেওয়ার টোপ দিয়ে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে যায় রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দাস৷ নিজেদের সঙ্গে করে দশ বছরের ছেলেকও নিয়ে যায় তাঁরা৷ এর পর সুযোগ বুঝে প্রথমে ইস্ত্রি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পরে ক্ষুর দিয়ে দেবস্মিতা পালের হাতের শিরা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দু জন৷ খুনের পর পোশাক পরিবর্তন করে দেবস্মিতার ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসে তাঁরা৷
  • Link to this news (News18 বাংলা)