TMC Leader Hanged: শীতলকুচি রবিবার সকালে শীতলকুচি ব্লকের গোঁসাইরহাট বাজারে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত ব্যক্তির নাম দিলীপ দেবনাথ এবং তিনি কোচবিহার গুড়িয়াহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একজন পরিচিত তৃণমূল নেতা হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী দেবনাথ ওই পঞ্চায়েতেরই বর্তমান তৃণমূল সদস্যা। এদিন সকালে বাজারের মাংসহাটিতে এক ব্যক্তির দেহ ঝুলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান এবং পরে তাঁর পরিচয় জানা যায়।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের দাবি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তাঁরা সম্পূর্ণ বাড়িছাড়া ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। বর্তমান শাসকদল তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে এবং তাঁদের ওপর অনবরত শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই চরম হেনস্তা সহ্য করতে না পেরে এবং কোনও উপায় না পেয়েই দিলীপবাবু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে শীতলকুচি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙ্গার মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
শনিবার তিনি নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট করে এলাকারই কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর পরে রবিবার সকালে শীতলখুচির গোসাইয়ের হাট বাজারে গিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, দিলীপ নিজেও তৃণমূল একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরে তিনি নিজের এলাকা ছেড়ে শীতলখুচিতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।একই সঙ্গে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
দিলীপ দেবনাথের মেয়ে মধুমিতা দেবনাথ সংবাদমাধ্যমকে জানান, দিলীপবাবুর উপর মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। বাবা অনেকদিন ধরে বাড়িছাড়া ছিল। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বাবার বিরুদ্ধে। আমাদের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী দাবি করেন, প্রশাসনকে বিব্রত করতেই এই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে। দিলীপ দেবনাথের ফেসবুকে যাঁদের নাম রয়েছে, তিনি নিজেই সে নামগুলো লিখেছেন তার কোনও প্রমাণ নেই।