• সবুজসাথীর সাইকেল বিক্রির অভিযোগে কেশিয়াড়ীতে গ্রেপ্তার ২
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ জুন ২০২৬
  • সরকারি সবুজসাথী প্রকল্পের সাইকেল পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছনোর আগেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কেশিয়াড়ী থানার অন্তর্গত গগনেশ্বর এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই সাইকেল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গগনেশ্বর বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সবুজসাথী প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু সাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সাইকেলগুলির একটি অংশ নির্দিষ্ট পড়ুয়াদের হাতে তুলে না দিয়ে স্থানীয় দুই সাইকেল ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তদন্তে নামে কেশিয়াড়ী থানার পুলিশ।

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ঘটনায় স্কুলের কিছু কর্তৃপক্ষের ভূমিকা থাকতে পারে। অভিযোগের তির গিয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিবাকর পাত্র এবং এক করণিকের দিকে। তাঁদের মদতেই সরকারি প্রকল্পের সাইকেল অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ লালু সিং এবং সুশান্ত মান্না নামে দুই সাইকেল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বেআইনিভাবে কেনাবেচার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, মোট কতগুলি সাইকেল বিক্রি হয়েছে, কার নির্দেশে এই কাজ হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন।

    শনিবার ধৃতদের খড়গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ মনে করছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের আরও সদস্যদের নাম সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি সাইকেল বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবক মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করতে যে প্রকল্প চালু করা হয়েছে, সেই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রীকে।

    স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)