শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে এই ৫ দাবি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র, মানবে কেন্দ্র?
প্রতিদিন | ০৮ জুন ২০২৬
কেবল সোশাল মিডিয়ায় নয়, শনিবার প্রতিবাদের ময়দানে নেমে পড়়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। যে কাজ করার কথা ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির, সেই কাজে দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত করে দেশের যুবসমাজের একাংশ। নিট কেলেঙ্কারি-সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় সংগঠনটি। সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা— আগামী ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে বিরাট আন্দোলন হবে। অবশ্যি কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন থেকে নারী সংরক্ষণ— দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে ৫টি মৌলিক দাবি তুলেছে তরুণ প্রজন্ম। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এই ৫ দাবি কী কী?
১ বিচার বিভাগীয় সংস্কার
ইদানীংকালে দেখা গিয়েছে অবসর গ্রহণের পর সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতি রাজ্যসভার কিংবা কোনও সরকারি পদ বসছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা আদতে রাজনৈতিক পুরস্কার। সিজেপি দাবি তুলেছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতিকে অবসর গ্রহণের পর রাজ্যসভার আসন বা অন্য কোনও সরকারি পদে বসানো যাবে না। বলা বাহুল্য, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই দাবি তোলা হয়েছে।
২ নির্বাচনী জবাবদিহি
পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইরআর-এ অসংখ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। লক্ষাধিক নাম এখনও বিচারাধীন। ইতিমধ্যে ভোট মিটে ক্ষমতার বদল হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, কোনও বৈধ নাগরিকের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে তাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এই গাফিলতির দায়ে বর্তাবে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপরে। এই অপরাধে সরাসরি ইউএপিএ আইনের আওতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
৩ সংসদে ৫০% নারী সংরক্ষণ
ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম দাবি হল মহিলা সংরক্ষণ। যুবারা জানিয়েছেন, লোকসভা, রাজ্যসভা এবং দেশের সমস্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রকগুলিতে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে, এর জন্য সংসদের মোট আসন সংখ্যা বাড়ানো চলবে না বলেও জানিয়েছে তারা।
৪ সংবাদমাধ্যম সংস্কার
সাম্প্রতিক সময়ে ‘গোদি মিডিয়া’ নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় সিজেপি-র দাবি, আদানি ও আম্বানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সমস্ত সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রথম সারির বিতর্কিত নিউজ অ্যাঙ্করদের সম্পত্তির উৎস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে।
৫ দলবদল রুখতে কড়া আইন
রাজনীতিতে ইদানীং দলবদলুদের ভিড়। ক্ষমতায় আসার মরিয়া চেষ্টায় ‘হাইজ্যাক’ হচ্ছে বিধায়ক থেকে সাংসদ। এর জন্য মোটা টাকা হাতবদল হচ্ছে বলেও অভিযোগ। রাজনৈতিক অধঃপতনের এই যুগে ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম দাবি, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক যদি নিজের দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন, তবে তাঁর উপর আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে লড়া বা কোনও সরকারি পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি বলেন, ‘দেশের যুবসমাজ এখন আর ভয় পায় না।’ পাশাপাশি বলেন, তাঁদের লড়াই এখানেই শেষ নয়। ৭ দিনের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে ইনস্টাগ্রামে লাইভে এসে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি। আন্দোলনের সাফল্য ব্যাখ্যা করে দীপক বলেন, “আমাদের প্রতিবাদ সফল হয়েছে। ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এই আন্দোলন দিল্লির বাইরেও প্রসারিত হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা পিছু হঠব না। এবং এই আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আরও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।” তরুণদের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।